বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলন | মাধ্যমিক ইতিহাস

West Bengal Madhyamik History Suggestion | Class ten History Suggestion| History Suggestion for Madhyamik | Dosom srenir itihas Suggestion| WBBSE History Suggestion| Important Questions Answer for Madhyamik Exam| Model Question paper Madhyamik History Exam | Madhyamik History Suggestion |Madhyamik History Suggestion | Rlearn Education |Samrat Exclusive Suggestion| Ready Steady go Madhyamik Suggestion| Madhyamik Challengers Suggestion|Khan sir Suggestion| Jewel Sir Suggestion|Rlearn Education| Class Ten Suggestion 2025 | Madhyamik History Suggestion 2025 | Class Ten Suggestion

প্রশ্ন: বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলনের পরিচয় দাও।

অথবা

বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলনের তিতুমীরের ভূমিকা আলোচনা কর।

অথবা

বারাসাত আন্দোলনের উপর একটি টীকা লেখ।


ভূমিকাঃ- ওয়াহাবি আন্দোলন: ভারতবর্ষে ওয়াহাবি আন্দোলন শুরু করেন দিল্লির বিখ্যাত মুসলিম সন্ত শাহ ওয়ালিউল্লাহ ও তার পুত্র আজিজ। তবে ভারতবর্ষে ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন রায়বেরিলির অধিবাসী সৈয়দ আহমেদ।


ওয়াহাবি আন্দোলনের উদ্দেশ্য:- ‘ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রকৃত নাম হল ‘তারিকা-ই-মহম্মদীয়া’ অর্থাৎ ইসলাম ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা হজরত মহম্মদ প্রদর্শিত পথ। ওয়াহাবি আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল ইসলামধর্মের মধ্যে প্রচলিত কুসংস্কার দূর করে মহম্মদের নির্দেশ অনুসরণ করে ইসলামধর্মের সংস্কার করা। ওয়াহাবি আন্দোলনকারীরা বিধর্মী ইংরেজ-শাসিত ভারতকে ‘দার-উল-হারব’ (শত্রুর দেশ) বলে অভিহিত করত। তাই তারা ধর্মযুদ্ধের মাধ্যমে ভারতবর্ষ থেকে বিধর্মী ইংরেজদের বিতাড়িত করার জন্য আন্দোলন করেছিল।


তিতুমিরের নেতৃত্বে বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলন:- বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ছিলেন মির নিশার আলি, যিনি তিতুমির নামে অধিক পরিচিত। তিতুমির 39 বছর বয়সে মক্কায় হজ করতে গিয়ে সৈয়দ আহমদের সংস্পর্শে এসেছিলেন এবং দেশে ফিরে ইসলামধর্মের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছিলেন। পরবর্তীকালে এই আন্দোলন কৃষক আন্দোলন’ -এ পরিণত হয়েছিল। বারাসত অঞলে তিতুমিরের এই আন্দোলন বারাসত বিদ্রোহ’ নামেও পরিচিত।

তিতুমিরের আন্দোলনের মূল কথা ছিল—

I.  একমাত্র আল্লাহকে মান্য করতে হবে।

II.  মুসলমানদের ইসলামধর্মবহির্ভূত সংস্কার পরিত্যাগ করতে হবে।

III.  অনুগামীদের দাড়ি রাখতে হবে।

IV.  অত্যাচারী জমিদারদের রাজস্ব দাবির বিরোধিতা করতে হবে।


তিতুমিরের বিরুদ্ধে জমিদারদের প্রতিক্রিয়া:- তিতুমিরের প্রভাবে 24 পরগনা, নদিয়া, মালদহ, রাজশাহি, ঢাকা প্রভৃতি অঞ্চলের কৃষকরা ওয়াহাবি আন্দোলন শুরু করলে জমিদার, নীলকর সাহেব ও মুসলমান মোল্লারা তিতুমিরের বিরোধিতা শুরু করে। পুড়ার জমিদার কৃষ্ণদেব  রায় তিতুমিরের অনুগামীদের দমন করার জন্য দাড়ির উপর 2.5 টাকা কর ধার্য করেছিলেন। তিতুমির বারাসতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নিজেকে ‘স্বাধীন বাদশাহ’ বলে ঘোষণা করেছিলেন ও মইনউদ্দিন নামে এক অনুগামীকে প্রধানমন্ত্রী এবং ভাগ্নে গোলাম মাসুমকে প্রধান  সেনাপতি নিযুক্ত করে স্বাধীনভাবে রাজত্ব করার পরিকল্পনা করেন। তিনি নারকেলবেড়িয়ার সদর দপ্তরে বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে ওই অঞ্চলের জমিদারদের কাছে রাজস্ব দাবি করেন।


বারাসত বিদ্রোহের অবসান:- তিতুমিরের বিরুদ্ধে স্থানীয় জমিদার ও নীলকর সাহেবরা গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়ম বেন্টিঙ্কের শরণাপন্ন হলে 1831 খ্রিস্টাব্দে লর্ড বেন্টিং তার বিরুদ্ধে  এক অভিযান প্রেরন করেন এবং কামানের আঘাতে বাঁশেরকেল্লা ধ্বংস হয়। তিতুমীর ও তার কয়েকজন অনুগামী বীরের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ দেন বন্দি সৈন্যদের ফাঁসি হয় এবং অনেকে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড ভোগ করেন।


গুরুত্ব:- ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে ওয়াহাবি আন্দোলনের গুরুত্ব অপরিসীম। তিতুমিরের নেতৃত্বে পরিচালিত ওয়াহাবি আন্দোলন ধর্মসংস্কার আন্দোলন হিসেবে শুরু হলেও এটি কৃষক বিদ্রোহের রূপ পরিগ্রহণ করেছিল। অত্যাচারী জমিদার ও নীলকর সাহেবদের হাতে নির্যাতিত মানুষদের সংগঠিত করে তিতুমির বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। তাই এই আন্দোলনের গুরুত্ব কে অস্বীকার করা যায় না।

Rlearn Education