ভারতের প্রাচীন যুগের ইতিহাস |বৈদিক যুগ |Complete Mcq Notes

আর্য কথার অর্থ কী?

(ক) একটি জাতি

(খ) সৎ বংশজাত ব্যক্তি

(গ) একটি ভাষা গােষ্ঠী

(ঘ) একটি যাযাবর গােষ্ঠী

উত্তর: (খ) সৎ বংশজাত ব্যক্তি

📝প্রশ্ন :আর্যদের প্রাচীনতম গ্রন্থটি কি?

(ক) সংহিতা

(খ) বেদ

(গ) লেদা

(ঘ) কোনােটিই নয় ।

উত্তর :বেদ( এর অপর নাম শ্রুতি)।

প্রশ্ন :ঋকবেদের যে মণ্ডলটি প্রথমে লেখা হয়েছিল, সেটি হল—-

(ক) প্রথম মণ্ডল

(খ) দ্বিতীয় মণ্ডল

(গ) তৃতীয় মণ্ডল

(ঘ) চতুর্থ মণ্ডল

উত্তরঃ (খ) দ্বিতীয় মণ্ডল

প্রশ্ন :ঋকবেদ যে মণ্ডলটি সর্বশেষে লেখা হয়েছিল-

(ক) দ্বিতীয় মণ্ডল

(খ) তৃতীয় মণ্ডল

(গ) চতুর্থ মণ্ডল।

(ঘ) দশম মণ্ডল

উত্তরঃ (ঘ) দশম মণ্ডল

ঋকবেদ যে দেবতার স্তুতি সর্বাপেক্ষা কম দেখা যায়

(ক) বরুণ

(খ) সূর্য

(গ) বিষ্ণু

(ঘ) প্রজাপতি ব্রহ্লা

উঃ (গ) বিষ্ণু

ঋকবেদের কোন স্তোত্রে প্রথম বর্ণভেদ ব্যবস্থার উল্লেখ আছে?

(ক) দশম মণ্ডলের পুরুষক্ত স্তোত্রে

(খ) পঞ্চম মণ্ডলে

(গ) দ্বিতীয় মণ্ডলে

(ঘ) কোনটিই নয়

Ans:(ক) দশম মণ্ডলের পুরুষক্ত স্তোত্রে

শত দাঁড় বিশিষ্ট নৌকার উল্লেখ কোন বেদে পাওয়া যায় ?

(ক) ঋকবেদ

(খ) সামবেদ

(গ) যজুঃবেদ

(ঘ) অথর্ববেদ

Ans:(ক) ঋকবেদ

ঋকবেদ যে দেবতার স্তুতি সর্বাপেক্ষা কম দেখা যায়

(ক) বরুণ

(খ) সূর্য

(গ) বিষ্ণু

(ঘ) প্রজাপতি ব্রহ্লা

উঃ (গ) বিষ্ণু

ঋকবেদের কোন স্তোত্রে প্রথম বর্ণভেদ ব্যবস্থার উল্লেখ আছে?

(ক) দশম মণ্ডলের পুরুষক্ত স্তোত্রে

(খ) পঞ্চম মণ্ডলে

(গ) দ্বিতীয় মণ্ডলে

(ঘ) কোনটিই নয়

উত্তরঃ (ক) দশম মণ্ডলের পুরুষক্ত স্তোত্রে

ঋকবেদে বর্ণিত দুই জৈন তীর্থঙ্করের একজন হলেন ঋষভদেব, অন্যজন হলেন-

(ক) আরিস্টানেমী

(খ) পার্শ্বনাথ

(গ) বর্ধমান

(ঘ) মহাবীর

উঃ (ক) আরিস্টানেমী

বিবাহের সময় সম্প্রদান শব্দের উল্লেখ পাওয়া যায়-

(ক) ঋকবেদ।

(খ) সামবেদ

(গ) যজুঃবেদ

(ঘ) অথর্ববেদ

উঃ (ক) ঋকবেদ

📝দক্ষিণ ভারতে আর্য সভ্যতার বিস্তার ঘটান ঋষি

(ক) অগস্ত্য

(খ) বাশ্মীকি

(গ) বিশ্বমিত্র

(ঘ) বশিষ্ট

উঃ (ক) অগস্ত্য

গন্ধর্ব উপবেদ কোন বেদের সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত ?

(খ) সামবেদ

(গ) যজুঃবেদ

(ঘ) অথর্ববেদ

Ans :(খ) সামবেদ,

📝সঙ্গীতের উৎস ও ধ্রুপদ রাগ পাওয়া যায় যে বেদে, সেটি হল

(ক) অথর্ববেদ

(খ) ঋকবেদ

(গ) সামবেদ,

(ঘ) কোনটিই নয়

উঃ (গ) সামবেদ।

প্রথম আখ চাষের উল্লেখ যে বেদে পাওয়া যায়

(ক) ঋকবেদ

(খ) সামবেদ

(গ) যজুঋবেদ

(ঘ) অথর্ববেদ

উঃ (খ) সামবেদ

যে বৈদিক গ্রন্থে প্রথম পণের ইঙ্গিত পাওয়া যায় সেটি হল

(ক) ঋকবেদ

(খ) সামবেদ

(গ) যজুবেদ

(ঘ) অথর্ববেদ

উঃ (ঘ) অথর্ববেদ

প্রশ্নঃ যে বেদে মেয়েদের জন্মকে অভিশাপ বলা হয়েছ

(খ) অথর্ববেদ

(ক) ঋকবেদ

(ঘ) সামবেদ,

(গ) যজুঃবেদ

উত্তরঃ(খ) অথর্ববেদ।

📝উপনিষদ রচনার সময়কাল-

(ক) খ্রীঃপূঃ ১০০০ অব্দ

(খ) খ্রীঃপূঃ ১১০০ অব্দ

(গ) খ্রীঃপূঃ ৯০০ অব্দ

(ঘ) খ্রীঃপূঃ ৭০০ অব্দ

উঃ (ঘ) খ্রীঃপূঃ ৭০০ অব্দ

📝প্রশ্নঃ বৈদিকযুগে উপনিষদের সংখ্যা কয়টি?

(ক) ১১৫ টি

(গ) ১০৮ টি

(খ) ১১০ টি

(ঘ) ১০০ টি

উত্তর:(গ) ১০৮ টি

প্রাচীন ভারতে একেশ্বর আত্মার উল্লেখ পাওয়া যায় ?

(ক) ব্রাক্ষ্মণ্য সাহিত্যে

(খ) উপনিষদে

(গ) সুত্র সাহিত্যে

(ঘ) স্মৃতিশাস্ত্রে

উঃ (খ) উপনিষদে

📝 প্রশ্ন: সত্যমেব জয়তে’ কোন উপনিষদে আছে?

(ক) মুণ্ডক উপনিষদ

(খ) তৈরিয়

(গ) কৌশিক

(ঘ) কোনটিই নয়

উত্তর: (ক) মুণ্ডক উপনিষদ

প্রঃ ন্যায় দর্শনের প্রবক্তা কে?

(ক) ব্যাসদেব

(খ) গৌতম

(গ) পতঞ্জলী

(ঘ) কেউই নন

উত্তরঃ(খ) গৌতম

📝প্রশ্ন: সংখ্যা দর্শনের প্রবক্তা কে?

(ক) পতঞ্জলী

(খ) কনা

(গ) কপিল।

(ঘ) বেদব্যাস

উত্তরঃ(গ) কপিল

ঋকবেদ অনুসারে পরিবারের প্রধানকে বলা হত

(ক) গ্রামনী

(গ) বিশপতি

(খ) কুলপা

(ঘ) গােপ

উঃ (খ) কুপা

📝ঋকবৈদিক যুগে গােপ কাকে বলা হত ?

(ক) পরিবারের প্রধানকে

(খ) বিশের প্রধানকে

(গ) জনের প্রধানকে

(ঘ) গ্রামের প্রধানকে

উঃ (গ) জনের প্রধানকে

প্রশ্ন: বৈদিক যুগে রাজার নির্বাচনে কে অংশ নিত?

(ক) সভা

(খ) সমিতি

(গ) গ্রামনী

(ঘ) কোনটিই নয়

উত্তর :(খ) সমিতি

চতুরাশ্রমের শেষ আশ্রম কোনটি?

(ক) ব্ৰত্মচর্য

(খ) গাহস্ত্য

(গ) বানপ্রস্থ।

(ঘ) সন্ন

উত্তরঃ(ঘ) সন্ন্যাস

📝বৈদিক যুগে যে সম্প্রদায়ের মধ্যে গান্ধর্ব বিবাহ প্রথা বিশেষ প্রচলন ছিল সেই সম্প্রদায় হল-

(ক) ব্রাক্ষ্মন।

(খ) ক্ষত্রিয়

(গ) বৈশ্য

(ঘ) শূদ্র

উত্তরঃ (খ) ক্ষত্রিয়

📝প্রশ্নঃ ক্ষত্রিয় সম্প্রদায় যে পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিল, সেটি হল

(ক) ব্যবসা বানিজ্য।

(খ) কর সংগ্রাহক

(গ) করণীক

(ঘ) কোনটি নয়

উত্তরঃ (গ) করণীক

ভারতের যে অঞ্চলে শূদ্র সম্প্রদায়ের সম্পত্তির অধিকার অতি খর্ব করা হয়েছিল।

(ক) দক্ষিণ ভারত

(খ) রাজস্থান

(গ) পূর্ব ভারত

(ঘ) উত্তর ভারত

উঃ (ক) দক্ষিণ ভারত

📝মগধ রাজ্যের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়

(ক) ব্রাত্মণ্য সাহিত্যে

(খ) মহাভারতে

(গ) রামায়ণে

(ঘ) সূত্র সাহিত্যে

উঃ (খ) মহাভারতে

📝রামায়ণ কার লেখা?

(ক) বাল্মিকী

(গ) ভারবি

(ক) বাল্মিকী

(খ) বেদব্যাস

উত্তরঃবাল্মিকী

প্রাচীন ভারতে প্রথম সতীর সহমরণের উল্লেখ পাওয়া যায়—

(ক) ঋকবেদ

(খ) সমবেদ

(গ) রামায়ণে

(ঘ) মহাভারতে

উঃ (ঘ) মহাভারতে

কলিঙ্গ রাজ্যের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়

(ক) অথর্ববেদে

(খ) মহাভারতে

(গ) রামায়ণে

(ঘ) ভগবতী সূত্রে

উঃ (খ) মহাভারতে

প্রশ্নঃ মেয়েদের বহুবিবাহের প্রমান পাওয়া যায়

(ক) মহাভারত থেকে

(খ) রামায়ণ থেকে

(গ) বৌদ্ধ সাহিত্য থেকে

(ঘ) জৈন সাহিত্য থেকে

উত্তরঃ (ক) মহাভারত থেকে

প্রাচীন পুরাণে যে সম্প্রদায়কে যবন বলা হত।

(খ) পারসীক

(গ) হুন

(ঘ) শক

(ক)গ্রীক

উঃ (ক) গ্রীক

ভারতবর্ষ শব্দের উল্লেখ পাওয়া যায়

(ক) ঋকবেদ থেকে

(গ) শতপথ ব্রাক্ষ্মণে

(ঘ) বিষ্ণুপুরাণ থেকে

(খ) অথর্ববেদ থেকে

উঃ (ঘ) বিষ্ণুপুরাণ থেকে

📝মহাভারত কার লেখা?

(ক) বাল্মিকী

(গ) জয়দেব

(খ) বেদব্যাস

(ঘ) বিশাখদত্ত

উঃ (খ) বেদব্যাস

মহাভারতের সময় একটি গণরাজ্য হল

(ক) মগধ

(খ) হস্তিনাপুর

(গ) যাদব

(ঘ) পাল।

উত্তর: (গ) যাদব

📝পুরানের সংখ্যা কয়টি?

(ক) ১৫ টি

(গ) ১৮ টি

(খ) ১৭ টি

(ঘ) ২০ টি

উত্তর:(গ) ১৮ টি

পুরাণের বর্ণনা অনুসারে পৃথিবীর প্রথম মানব

(ক) যদু

(খ) মনু

(গ) পুরু

(ঘ) কাশ্যপ

উত্তর: (খ) মনু

প্রশ্ন: পুরাণের বর্ণনা অনুসারে পৃথিবীর প্রথম রাজা হলেন

(ক) চন্দ্র

(খ) সূর্য

(গ) পৃথু

(ঘ) যদু

উত্তর: (গ) পৃথু

পুরাণ সমূহে প্রাচীন ভারতের সর্বমােট রাজবংশ আছে

(ক) ১৩৮ টি

(খ) ১৩৫ টি

(গ) ১৩০ টি

(ঘ) ১২৫ টি

উত্তর: (ক) ১৩৮ টি

📝প্রথম স্মৃতিশাস্ত্র কে রচনা করেন?

(খ) পরাশর

(গ) ব্যাসদেব।

(ক) মনু

(ঘ) বাল্মিকী

উত্তর:(ক) মনু

যে স্মৃতিশাস্ত্রে মেয়েদের শূদ্রের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে

(ক) নারদ স্মৃতি

(খ) যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি

(গ) মনু স্মৃতি।

(ঘ) পরাশর স্মৃতি

উঃ (গ) মনু স্মৃতি

📝যে স্মৃতিশাস্ত্রে বর্ণভেদ ব্যবস্থার সর্বাধিক উল্লেখ পাওয়া যায় তা হল

(ক) মনু স্মৃতি

(খ) নারদ স্মৃতি

(গ) যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি

(ঘ) বৃহস্পতি স্মৃতি

উঃ (ক) মনু স্মৃতি

📝কোন অঞ্চল থেকে আর্যরা ভারতে প্রবেশ করেছিল?

(ক) ইউরােপ

(খ) দঃপূর্ব এশিয়া

(গ) মধ্য এশিয়া

(ঘ) পারস্য অল

উঃ (গ) মধ্য এশিয়া

কোন বেদের স্তোত্রগুলাে যজ্ঞের সময় গান হিসাবে গাওয়া হত ?

(ক) ঋকবেদ

(খ) সামবেদ

(গ) যজুবেদ

(ঘ) অথর্ববেদ

উঃ (খ) সামবেদ

📝আর্যদের ব্যবহৃত দুটি মুদ্রার নাম কী ?

(ক) ঋক ও তা

(খ) বৃহ ও কারা

(গ) নিষ্ক ও মনা

(ঘ) কোনটিই নয়

উত্তর :(গ) নিষ্ক ও মুনা

📝কোন মহিলা বেদের কিছু স্তোত্র রচনা করেছিলেন?

(ক) সাবিত্রী

(খ) গার্গী

(গ) লীলাবতী

(ঘ) কেউই নন

উত্তরঃ (খ) গার্গী

বৈদিক সমাজের আচরণবিধি লিপিবদ্ধ আছে

(ক) পুরাণ

(খ) ঋকবেদ

(গ) সামবেদ

(ঘ) স্মৃতি

📝বৈদিকযুগের ধনী বণিকদের কী বলা হত?

(ক) পানি

(খ) সদাগর।

(গ) শ্রেষ্ঠী

(ঘ) কোনটিই নয়

উত্তর :(গ) শ্রেষ্ঠী

📝আর্য সভ্যতায় যে ধাতুর ব্যবহার সর্বপ্রথম শুরু হয় সেটি হল

(ক) লােহা

(খ) তামা

(গ) ব্রোঞ্জ

(ঘ) সােনা

উঃ (ক) লােহা।

📝বৈদিক যুগে যােদ্ধা নারী ছিলেন–

(ক) মৈত্রেয়ী

(গ) গার্গী

(খ) অপলা।

(ঘ) কোনটিই নয়

উত্তরঃ (খ) অপলা

বৈদিক যুগে যে গনরাজ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়–

(ক) দ্বারকা

(খ) মগধ।

(গ) কলিঙ্গ

(ঘ) হস্তিনাপুর

উঃ (ক) দ্বারকা।

ইতিহাস এই শব্দটি ঋকবেদের কোন স্তোত্রে আছে?

(ক) দান স্তুতি

(খ) ব্রাত্ম স্তুতি

(গ) বিষ্ণু স্তুতি

(ঘ) ইন্দ্র স্তুতি

উঃ (ক) দান স্তুতি

বৈদিক যুগে কোন দার্শনিক ঈশ্বরের অস্তিত্ব অগ্রাহ্য করেন?

(ক) উদ্ধলক

(খ) কপিল

(গ) অগস্ত্য

(ঘ) যাজ্ঞবল্ক্য

উত্তরঃ (ক) উদ্ধলক (উদ্যলক)

মৈত্রী ছিলেন-

(ক) দার্শনিক

(খ) চিকিৎসক

(গ) সেনাপতি

(ঘ) কোনটিই নয়।

উত্তর :(ক) দার্শনিক

📝অনুলােম বিবাহ কী?

(ক) একই বর্ণের পুরুষ ও নারীর বিবাহ

(খ) নিম্নবর্ণের পুরুষ ও নিম্নবর্ণের নারীর বিবাহ

(গ) উচ্চবর্ণের পুরুষ ও নিম্নবর্ণের নারীর বিবাহ

(ঘ) কোনটিই নয়

উত্তরঃ(গ) উচ্চবর্ণের পুরুষ ও নিম্নবর্ণের নারীর বিবাহ।

📝আর্যদের প্রধান খাদ্য ছিল

(ক) চাল ও দানাশস্য

(খ) বার্লি

(গ) গম।

(ঘ) ফল

উঃ (ক) চাল ও দানাশস্য

📝ঋকবৈদিক যুগে যে অর্থকারী ফসল সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ছিল তা হল

(ক) পাট

(খ) তিল

(গ) আখ

(ঘ) রেশম

উঃ (গ) আখ

বৈদিক সভ্যতার ইতিহাস আলোচনা :

প্রাচীন বৈদিক সভ্যতার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই সভ্যতার ইতিহাসে আর্য জাতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর্যদের আগমনের মধ্যে দিয়েই প্রাচীন বৈদিক সভ্যতার ভিত্তি স্থাপিত হয় ।‘আর্য’ দিয়ে জাতি বোঝালেও এটি মূলত একটি ভাষার নাম।
মজার ব্যাপার হচ্ছে সংস্কৃত ভাষার সাথে যে অন্য অন্তর্নিহিত সম্পর্ক আছে তা প্রথম তুলে ধরেন একজন বিদেশী নাগরিক ,যার নাম উইলিয়াম জোনস। উইলিয়াম জোনস ১৭৮৬ খ্রিস্টাব্দে তাঁর এশিয়াটিক সোসাইটির বক্তৃতামালায় প্রথমবারের মত সংস্কৃত ভাষার সাথে প্রাচীন গ্রীক, ল্যাটিন, জার্মান, পারসিক, কেলটিক প্রভৃতি ভাষার অন্তর্নিহিত সম্পর্কের কথা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন এই সমস্ত ভাষা গুলো একই মূল ভাষা হতে উৎপন্ন । কারণ, সংস্কৃত মূল ভাষা মূলত আর্য ভাষা থেকে উৎপন্ন। সুতরাং এটা স্পষ্ট যে সংস্কৃতভাষী ভারতীয় আর্যদের সাথে ইউরোপীয় ও মধ্য এশিয়ার আর্য ভাষাভাষীদের মধ্যে সাদৃশ্য ছিল।

যারা আর্য ভাষায় কথা বলত তাদেরকেই মূলত আর্য জাতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরা মূলত দুই ভাগে বিভক্ত: একটি ইউরোপে বসবাস করত এবং অপরটি ভারতীয় উপমহাদেশ ও এশিয়া মাইনরে বসবাস করা শুরু আর্যদের আগমন নিয়ে ইতিহাসবিদদের বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে।
বিখ্যাত ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ম্যাকডোনাল ও গিল এর মতে,‘ হাঙ্গেরি, অস্ট্রিয়া ও চেকোশ্লোভাকিয়া নিয়ে ইউরোপের যে অঞ্চল গঠিত, সেটাই ছিল আর্যদের আদি বাসস্থান।’ আরেক বিখ্যাত ঐতিহাসিক “রমেশ চন্দ্র মজুমদার” বলেন, দক্ষিণ রাশিয়া ছিল আর্যদের আদি ভূমি।

আর্যদের আগমন নিয়ে বিভিন্ন মতভেদ থাকলেও এটা পরিষ্কার যে, আনুমানিক খ্রীস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে পূর্ব ইউরোপের পোল্যান্ড থেকে মধ্য এশিয়া পর্যন্ত যে বিস্তীর্ণ তৃণভূমি অঞ্চল রয়েছে সেখানে আর্যরা বসবাস করত। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অভ্যন্তরীন কলহ, খাদ্যের অভাব প্রভৃতি সমস্যার কারনে তারা নিজেদের আদিভূমি ত্যাগ করে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে। সেদিক থেকে বর্তমান ইরানীরাও এই আর্যজাতির বংশধর।

আর্যদের অপর একটি শাখা উত্তর-পশ্চিম গিরিপথ দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। অনুমান করা যায় যে, খ্রীস্টপূর্ব ১৪০০-১৫০০ অব্দে আর্যরা ভারতে অনুপ্রবেশ করে। আর্যদের প্রভাব-প্রতিপত্তি মূলত উত্তর ভারতেই বেশি ছিল। কিন্তু দাক্ষিণ ভারতে এই আর্য সভ্যতা এতটা আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি।

সিন্ধু নদী বিধৌত ভূমিতে তারা তাদের সভ্যতা গড়ে তোলে। বৈদিক সাহিত্যে এই অঞ্চলকে ‘সপ্ত সিন্ধু’ নামে চিন্হিত করা হয়েছে। সিন্ধু, ইরাবতী, শতদ্রু, চন্দ্রভাগা, স্বরস্বতী, বিপাশা, বিতস্ত, এই সাতটি নদীকে ঘিরেই আর্যদের সভ্যতা গড়ে ওঠে। কিন্তু ঐ অঞ্চলের আদি অধিবাসীরা কিন্তু আর্যদের এই অনুপ্রবেশকে মেনে নিতে পারেনি। ফলে দীর্ঘকাল ধরে তাদের যুদ্ধ চলতে থাকে এবং যুদ্ধে পারদর্শী আর্যরা তাদের শোচনীয়ভাবে পরাস্ত করে। পরাজিত আদিবাসীরা পাহাড় ও বন-জঙ্গলে গিয়ে বসবাস করা শুরু করে এবং অন্যরা আর্য সমাজের নিম্ন শ্রেণীর অন্তর্ভূক্ত হয়ে জীবন ধারণ করতে থাকে। আর্যরা এদের দস্যু, দাস, অসুর, রাক্ষস প্রভৃতি নামে অভিহিত করত। এদের বলা হত অনার্য।

বৈদিক যুগের সামাজিক অবস্থা:

বর্তমান হিন্দু সমাজে জাতিভেদ যে প্রথাটি , প্রাচীন বৈদিক সমাজে এই প্রথাটি ছিলনা। অনার্যদের সাথে সংমিশ্রিত হয়ে এই নতুন ভাবধারার উদ্ভব হয়। সমাজে অর্থনৈতিক শ্রেণী থাকলেও বংশীয় শ্রেণীভেদ ছিলনা কিন্তু কালক্রমে তাদের মাঝে জাতিভেদ প্রথা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। সমাজকে চার ভাগে বিভক্ত ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র- এই চার ভাগে ভাগ করা হয় । প্রাচীন বৈদিক যুগের শেষদিকে এই জাতিভেদ প্রথা মারাত্মক আকার ধারণ করে। সমাজে কৌলিণ্য প্রথা বেড়ে যায়। তবে এই জাতিভেদ প্রথাটি তৎকালীন ক্ষমতাধররা তাদের স্বার্থ চরিতার্থে প্রচলন করে থাকে। পবিত্র বেদে কোনো জাতি ভেদের উল্লেখ নেই।

বৈদিক সমাজে ‘চতুরাশ্রম’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। এর মাধ্যমে মানবজীবনকে চারটি পর্যায়ে ভাগ করা হয় । এই চারটি ভাগের প্রথম জীবন ছিল ব্রম্মচর্য। এই সময় প্রত্যেক আর্য বালক উপনয়নের পর তার গুরুর গৃহে থেকে বিদ্যা লাভ করত এবং গুরুর সেবা করত। বিদ্যালাভ শেষে গার্হাস্থ্য আশ্রম শুরু করতে হত অর্থাৎ, বিয়ে করে সংসার জীবন শুরু করতে হত।

তারপর শুরু হত বাণপ্রস্থাশ্রম।বনে কুটির বেঁধে নির্লিপ্ত জীবন-যাপনই ছিল এর প্রধান উদ্দেশ্য। শেষ পর্যায়টি হল ‘সন্ন্যাস’ বা ‘যতি-আশ্রম’। এ পর্যায়ে এসে সবাইকে সন্ন্যাসীর মত জীবন যাপন করতে হত।

বৈদিক সমাজে নারীর স্থান:

বৈদিক সমাজে নারীর অবস্থান ছিল অত্যন্ত উঁচু এবং সম্মানজনক। শিক্ষা, অস্ত্র বিদ্যা, রাজকার্য, কৃষি , ব্যবসা প্রভৃতি সকল ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষের সমান মর্যাদা লাভ করতেন। গৃহস্থালীর বিষয়ে নারীর সর্বময় কর্তৃত্ব ছিল। সমাজে পুত্র সন্তানের প্রতি ঝোঁক থাকলেও, কন্যা সন্তাকে অবহেলা করা হতনা। সমাজে নারীকে দেবী নামে সম্বোধন করা হত। নারীর প্রতি নিপীড়নের শাস্তি ছিল ভয়াবহ। বৈদিক যুগে কয়েকজন বিখ্যাত নারী ঋষি ছিলেন যারা বেদ মন্ত্র দ্রষ্টা ছিলেন, এরা হলেন: লোপামুদ্রা, মমতা, ঘোষা, বিশ্ববারা, অপালা প্রমুখ । সাহিত্য রচনায় ও নারীদের ভূমিকা ছিল।

বৈদিক যুগের ধর্মীয় অবস্থা:

ঘোষা, বিশ্ববারা, অপালা প্রমুখ । সাহিত্য রচনায় ও নারীদের ভূমিকা ছিল। ‘বেদ’ ছিল সমাজের ধর্মীয় জীবনের মূল ভিত্তি। বেদকে বলা হয় “অপৌরোষেও” অর্থাৎ স্বয়ং ঈশ্বর এর স্রষ্টা। ‘বেদ’ শব্দটি ‘বিদ’ থেকে উৎপন্ন। এটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত। বেদ ও অন্যান্য বৈদিক সাহিত্যগুলি আনুমানিকভাবে খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০-১০০০ অব্দের মধ্যে রচিত বলে ধরা হয়। সমগ্র বিশ্ব সাহিত্যে বেদ একটি বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। বেদ মূলত চারভাগে বিভক্ত, যথা—ঋক, সাম, যজুঃ ও অথর্ব। আবার এই প্রত্যেকটি বেদ সংহিতা, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক ও উপনিষদ এই চারভাগে বিভক্ত। কোনো সাহিত্যিক বা দূতের মাধ্যমে এই বেদ রচনা হয়নি । ভিন্ন ভিন্ন সময়ে, ভিন্ন ভিন্ন ঋষি ও মহাপুরুষগণ তাদের ধ্যানে ঈশ্বর কর্তৃক যে বাণী প্রাপ্ত হতেন, সেটাই বেদে লিপি বদ্ধ করেছেন। কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন মূলত বেদের বেশীর ভাগ বাণী লিপিবদ্ধ করেছিলেন ঐবং তিনি বেদকে চার ভাগে বিভক্ত করেন। তাই তিনি “বেদব্যাস ” নামে বিখ্যাত।

উনবিংশ শতাব্দীতে প্রাপ্ত ঋগবেদের স্তোত্র বা বাণী গুলো সেই সময়ের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন ও সাহিত্যের মাঝে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হত। প্রকৃতির অধিষ্ঠাতা দেবতাদের উদ্দেশ্য করে এই বেদে ১০২৮টি ঋক বা স্তোত্রের বিবরণ রয়েছে। ঊষা, উন্দ্র, আকাশ, সূর্য, অগ্নি প্রমুখ দেবতার স্তুতি করা হয়েছে। অন্যদিকে সামবেদ যা ঋগবেদ হতেই সংকলিত তাতে ছন্দ, মাত্রা, সুর ও সঙ্গীত সংমিশ্রিত হয়েছে। যজুর্বেদ হল গদ্য এবং পদ্যের সংমিশ্রণ। এতে যাজ্ঞকর্মের পরিপূর্ণ বিবরণ ও বিভিন্ন মন্ত্র তুলে ধরা হয়েছে। বেদের শেষ স্তর হল অথর্ব বেদ।এই বেদে অনেক উপাসনার ইঙ্গিত, ঔষধপত্রের আলোচনা ও বিভিন্ন মন্ত্র উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রাচীন বৈদিক যুগে বর্তমান সনাতন বা হিন্দু ধর্মের মত প্রতিমা পূজা প্রচলিত ছিলনা। আর্যরা প্রকৃতির বিভিন্ন শক্তির প্রতি বিস্মিত হয়ে ভক্তি সহকারে দেব-দেবীরূপে তাদের উপাসনা করতে থাকে। জলের দেবতা বরুণ, বজ্রের দেবতা ইন্দ্র, ঝড়ের দেবতা মরুৎ, আলোর দেবতা সূর