সিরাজদ্দৌলা – মাধ্যমিক বাংলা

প্রশ্ন : “ওখানে কী দেখচ মূর্খ, বিবেকের দিকে চেয়ে দ্যাখাে!”— বক্তা কে? উদ্দিষ্ট ব্যক্তির প্রতি বক্তার কী মনােভাব লক্ষ করা যায়?
উত্তর : বক্তা:নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশে উদ্ধৃতাংশের বক্তা হলেন নবাব সিরাজদ্দৌলার মাসি ঘসেটি বেগম।
বক্তার মনােভাব : নবাব আলিবর্দি খাঁর মৃত্যুর পর সিরাজ বাংলার মসনদে বসলে মাসি ঘসেটি বেগম তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত শুরু করেন। তিনি চেয়েছিলেন তার পালিত পুত্র শওকতজঙ্গকে সিংহাসনে বসাতে। কিন্তু সিরাজের সিংহাসন অধিকারের পর তার সেই আশা অপূর্ণ থেকে যায়। আলােচ্য অংশে তাই সিরাজের প্রতি তার তীব্র বিদ্রুপাত্মক ও প্রতিহিংসাপরায়ণ মনােভাব লক্ষ করা যায়। তিনি নবাবের সামনে দাঁড়িয়ে নবাবের পতন কামনা করেন এবং তাকে মুখ ও দস্যু বলে অপমান করতেও ছাড়েন না। ঘসেটি বলেন, যেদিন ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে সিরাজ নবাবি হারাবেন সেইদিনটি তার কাছে অত্যন্ত সুদিন বলে বিবেচিত হবে, সেইদিন তিনি তার মতিঝিল প্রাসাদ ফিরে পাবেন। তিনি স্পষ্ট করেই জানিয়ে দেন তার পুত্রকে হত্যা, মতিঝিল দখল এবং মুর্শিদাবাদে বন্দি জীবনযাপনের যন্ত্রণা—সবকিছুর মূলেই রয়েছে সিরাজের চক্রান্ত। তাই তিনি কোনােদিনই সিরাজকে ক্ষমা করতে পারবেন না। এইসব উক্তি সিরাজের প্রতি ঘসেটির প্রতিহিংসা, আক্রোশ এবং ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলা চলে।

প্রশ্ন : ‘দুর্দিন না সুদিন?”—কে, কাকে বলেছে? দুর্দিন ও সুদিন’ বলতে কী বােঝানাে হয়েছে?

উত্তর : নাট্যরচয়িতা শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তর ঐতিহাসিক নাটক ‘সিরাজদ্দৌলা’ থেকে গৃহীত এই উদ্ধৃতিটি সিরাজদ্দৌলার মাসি ঘসেটি বেগম বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলার উদ্দেশে বলেছেন।

সুদিন ও দুর্দিন: আলিবর্দি খান তাঁর ছােটো মেয়ের পুত্র সিরাজকে নবাবরূপে মনােনীত করলে ঘসেটি বেগমের পালিত পুত্র শওকতজঙ্গ বাংলার সিংহাসন থেকে বঞ্চিত হয়। এই ঘটনায় সিরাজের প্রতি ঘসেটির প্রতিহিংসা দিনদিন বৃদ্ধি পেতে থাকে। মীরজাফর, জগৎশেঠ প্রমুখ বিশ্বাসঘাতকের সঙ্গে নবাব-বিরােধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন ঘসেটি বেগম।
সাম্রাজ্যবাদী, আগ্রাসী ইংরেজ কোম্পানির ফৌজ কাশিমবাজার অভিযান করেছে—এ বার্তা সিরাজের কাছে মাতৃভূমির মানমর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষার স্বার্থে বিপজ্জনক বলে মনে হয়েছে। তাই তিনি একে ভয়ংকর দুর্দিন’ বলেছেন।
সিরাজের অমঙ্গলসাধনই ঘসেটির উদ্দেশ্য। তাই স্বদেশ ধ্বংস হলেও তার কাছে সিরাজের পতন ও পরাজয়ই মুখ্য। কাশিমবাজারের পরে ফৌজ মুর্শিদাবাদের দিকে অগ্রসর হলে, ইংরেজ আক্রমণে বাংলা পরাধীন হবে এবং সিরাজ সিংহাসনচ্যুত হবেন, তাই বাংলা তথা সিরাজের দুর্দিনকে ঘসেটির সুদিন’ মনে হয়েছে।

প্রশ্ন : মাত্র পনেরােটি মাস আমি রাজত্ব করচি, লুৎফা!’—বক্তার পনেরাে মাসের রাজত্ব করার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দাও।
উত্তর : শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশে নবাব সিরাজদ্দৌলার মাত্র পনেরাে মাসের সংক্ষিপ্ত অথচ ঘটনাবহুল রাজত্বকালের পরিচয় পাওয়া যায়।

নবাবির অভিজ্ঞতা : নবাব আলিবর্দি খাঁ-র মৃত্যুর পর নানা ধরনের চক্রান্ত ও পরিকল্পনা জয় করে সিরাজদ্দৌলা সিংহাসন অধিকার করেন। এর ফলে তার নিজের মাসি ঘসেটি বেগম ও তার পালিত পুত্র শওকতজঙ্গ তার শত্রুতে পরিণত হন। ঘরের লােকের শত্রুতার পাশাপাশি কলকাতা অভিযান করে কৌশলী ইংরেজদের বিরুদ্ধে সিরাজকে লড়তে হয়েছিল। তাতে তার প্রচুর অর্থব্যয় ও লােকক্ষয় হয়েছিল। পূর্ণিয়ায় শওকতজঙ্গের সঙ্গেও তাকে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম করতে হয়েছিল। কলকাতা জয় করলেও তার সাম্রাজ্যে স্থিরতা আসেনি। একদিকে নবাবের দরবারে উপস্থিত ইংরেজ প্রতিনিধি ওয়াটস-এর মাধ্যমে ইংরেজ এবং মীরজাফর, জগৎশেঠ, রাজবল্লভ রায়দুর্লভ প্রমুখ সভাসদরা নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে পড়ে আর অন্যদিকে অন্দরমহলকে বিষাক্ত করে তােলেন মাসি ঘসেটি বেগম। এই সমস্ত বিশ্বস্ত ব্যক্তিবর্গের বিশ্বাসঘাতকতার প্রমাণ সংগ্রহের জন্য গুপ্তচর
পরিচালনায় প্রায় এক বছর অতিক্রান্ত হয়েছিল নবাবের। এই কারণেই ক্রমে মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালােবাসা, বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি।

সিরাজদ্দৌলা – মাধ্যমিক বাংলা | বাংলা নাটক

প্রশ্ন : জানি না, আজ কার রক্ত সে চায়। পলাশি, রাক্ষসী পলাশি!’—‘পলাশি’ নামকরণের কারণ লেখাে। এই উক্তির তাৎপর্য কী?

উত্তর : নামকরণের কারণ:শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত “সিরাজদ্দৌলা ” নাটকে পলাশির প্রান্তরের উল্লেখ পাই। জানা যায়, একসময় এই প্রান্তর লাখ লাখ পলাশ ফুলের লাল আভায় রাঙিয়ে থাকত। পলাশ ফুলের প্রাচুর্যে এই প্রান্তর পূর্ণ ছিল বলেই এর নাম হয়েছিল পলাশি।

তাৎপর্য :ইংরেজদের ষড়যন্ত্রে বাংলার নবাব সিরাজের বিরুদ্ধে তার সভাসদরা চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। শুধু তাই নয়, ইংরেজরাও নবাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে কাশিমবাজার ও মুরশিদাবাদ অভিমুখে সৈন্য নিয়ে যাত্রা করেছে। এর ফলে পলাশির প্রান্তরে যুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ মানেই রক্তপাত, প্রাণনাশ। পলাশির প্রান্তরে যুদ্ধ
হলে ইংরেজবাহিনী বা সিরাজ জয় যে পক্ষেরই হােক না কেন, রক্তপাত ঘটবেই। লাখ লাখ পলাশ ফুলের লাল রঙে রাঙিয়ে থাকত যে পলাশির প্রান্তর তা আবার রাঙিয়ে উঠবে যুদ্ধে নিহত সৈনিকদের রক্তে। আসন্ন যুদ্ধের বীভৎসতায় পলাশির প্রান্তরের এই নিষ্ঠুর দৃশ্য কল্পনা করে সিরাজ পলাশির প্রান্তরকে নৃশংস রাক্ষসীর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার
মনে হয়েছে আজও পলাশি রক্তিম বর্ণ ধারণ করার নেশায় রক্ততৃষায় উন্মত্ত।

প্রশ্ন : সিরাজদ্দৌলা’নাট্যাংশ অবলম্বনে সিরাজদ্দৌলার চরিত্র বৈশিষ্ট্য আলােচনা করাে।

উত্তর : শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত পাঠ্য সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশের কেন্দ্রীয় চরিত্র বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলা। সমগ্র নাট্যাংশে সিরাজ চরিত্রের উজ্জ্বল চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যাবলি পাঠককে মুগ্ধ করে।

নির্ভীকচিত্ত ও বিনয়ী : বাংলার মসনদকে ঘিরে যে গভীর রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক চক্রান্ত চলছিল, তাকে নির্ভীকচিত্তে দমন করতে উদ্যোগী হয়েছেন নবাব। একদিকে গুপ্ত চক্রান্তকারী ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি ওয়াটসকে নিজের দরবার থেকে তাড়িয়ে যেমন তিনি সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তেমনই ফরাসি প্রতিনিধি মসিয়ে লা-র প্রতি তার বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ তাঁর বিনয়ী মনােভাবের পরিচয় দেয়।

আত্মসমালােচনা : সিংহাসনে আরােহণের প্রথমদিকে নিজের উদাসীনতা, বিলাসিতা, সাম্রাজ্যের প্রতি অবহেলা করার মতাে ভুলগুলিকে তিনি উপলব্ধি করেছেন এবং সেজন্য সভাসদদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী হয়েছেন।

আবেগপ্রবণ : নাট্যাংশে সিরাজ আবেগতাড়িত হয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন, বিপদের সময় তাঁর সঙ্গ ত্যাগ না করার অনুরােধ করেন ষড়যন্ত্রকারীদের কাছে।

স্বদেশানুরাগী : সিরাজ দেশের স্বাধীনতা রক্ষায়, মানমর্যাদা রক্ষায় বিপদের সময় সকলের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেছেন, বাংলার সেই দুর্দিনে তিনি সভাসদদের ঐক্যবদ্ধভাবে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে যুদ্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

সৌহার্দ্যবােধ : ইংরেজের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে দরবারে হিতৈষী বা বিদ্বেষী, হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকলকেই তিনি সৌহার্দ্য স্থাপনের ডাক দিয়েছিলেন।

সহিষ্ণুতা : সহিষ্ণু সিরাজ নবাব হয়েও তার সভাসদদের কাছ থেকে পাওয়া অপমান, ঘসেটির তীব্র জ্বালাময় বাক্য নির্বিচারে সহ্য করেছেন।

দূরদর্শী সিরাজ : দূরদর্শী সিরাজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে আসন্ন যুদ্ধের সময় মীরজাফর ও অন্যান্য ষড়যন্ত্রকারীদের শাস্তি না দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে বলেছেন বিপদের আগাম আশঙ্কা করে। আবার তিনি দূরদৃষ্টি দিয়েই আগাম বুঝতে পেরেছিলেন পলাশির যুদ্ধই হবে তার নবাবি আমলের শেষ যুদ্ধ।
এই নাট্যাংশের সীমিত পরিসরে নবাব সিরাজদ্দৌলার চরিত্রের এই বৈশিষ্ট্যগুলি সচেতন পাঠকের নজর কাড়ে।


প্রশ্ন : ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশ অবলম্বনে মীরজাফরের চরিত্রবৈশিষ্ট্য নিরূপণ করাে।

উত্তর : শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশে সংক্ষিপ্ত উপস্থিতির মধ্যে মীরজাফরের দেশদ্রোহিতা, বিশ্বাসঘাতকতা, ষড়যন্ত্র ও লােভ-লালসা প্রকাশ পায়।

নবাব-বিরােধী ও ষড়যন্ত্রী : নবাবের আত্মীয়, প্রধান সেনাপতি ও কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও দরবার কক্ষে তার নবাববিরােধী আচরণ লক্ষ করা যায়। নবাব হওয়ার আশায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে সিরাজের পতন ঘটানাের চেষ্টা করেন মীরজাফর। স্বার্থ ও লােভের জন্য বাংলার স্বাধীনতা তিনি বিলিয়ে দিতে চান ব্রিটিশের কাছে।
অহংকারী ও প্রতারক : সিরাজ জগৎশেঠের স্পর্ধার জবাব দিলে, মীরজাফর নবাবকে সর্বসমক্ষে অপমান করতেও ছাড়েননি। তিনি সিপাহসালার হওয়া সত্ত্বেও নিজ দায়িত্ব ভুলে অনায়াসে নবাবের হয়ে তরবারি স্পর্শ না করার শপথ করেন। এমনকি মােহনলাল ও মীরমদনের প্রতিবাদের মুখে রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ ও জগৎশেঠকে সঙ্গে নিয়ে দরবার ত্যাগ করারও প্রস্তাব দিয়েছেন। তার প্রতি লেখা ব্রিটিশ প্রতিনিধি ওয়াটসের গােপন পত্র নবাবের হাতে এসেছে জেনেও তিনি। বিচলিত হননি। বরং চতুর মীরজাফর সিরাজের আবেগপূর্ণ সৌহার্দ্যের প্রস্তাবে তার পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন।
বিশ্বাসঘাতক : কিন্তু ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় দেখা যায় পলাশির প্রান্তরে মীরজাফরের সেই অঙ্গীকার বিশ্বাসঘাতকতায় রূপান্তরিত হয়েছে। এই নাট্যাংশে মীরজাফরকে বিশ্বাসঘাতক,প্রতারক, ষড়যন্ত্রকারী, স্বার্থলােভী, দেশদ্রোহী, কর্তব্যবিমুখ চরিত্র হিসেবেই
পাওয়া যায়।

সিরাজদ্দৌলা – মাধ্যমিক বাংলা

প্রশ্নঃ ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশে ঘসেটি বেগম স্বার্থান্বেষী, প্রতিহিংসাপরায়ণ এক নারী চরিত্রটি বিশ্লেষণ করাে।

উত্তর : ঘসেটির পরিচয় : শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশে নবাব সিরাজের মাসি ঘসেটি বেগম চরিত্রটি এক স্বার্থান্বেষী, প্রতিহিংসাপরায়ণা, কূট নারী চরিত্র হিসেবে অঙ্কিত হয়েছে।

প্রতিহিংসাপরায়ণা : সিরাজ রাজনৈতিক কারণে ঘসেটিকে গৃহবন্দি করে রাখলে ঘসেটি প্রতিহিংসাপরায়ণা হয়ে ওঠেন। ঘসেটির মুখেই সেই প্রতিহিংসার কথা প্রকাশ পায়—“আমার রাজ্য নাই, তাই আমার কাছে রাজনীতিও নাই—আছে শুধু প্রতিহিংসা।” তার এই প্রতিহিংসা পূর্ণ হবে সেইদিন যেদিন সিরাজের প্রাসাদ অপরে অধিকার করবে, তাকে সিংহাসন থেকে ঠেলে ফেলে শওকতজঙ্গের মতাে কেউ হত্যা করবে। সিরাজ-বিরােধী ষড়যন্ত্রে ঘসেটিই প্রধান ব্যক্তি।

দেশদ্রোহী : ঘসেটির পালিত পুত্র শওকতজঙ্গের সিংহাসন লাভের সম্ভাবনা যখন সিরাজের কারণে অসম্ভব হয়, তখন সিরাজ বিরােধী চক্রান্তে লিপ্ত হয়ে, ইংরেজদের পক্ষ নিয়ে বাংলার পতন ডেকে আনতেও পিছপা হননি তিনি।

অমানবিক :শুধুমাত্র রাজ্যলােভে সন্তানতুল্য সিরাজের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন ঘসেটি। অমানবিক, হিংস্র ঘসেটির সঙ্গে থাকতে লুফার ভয় হয়। মনে হয়, ওর নিশ্বাসে বিষ, ওর দৃষ্টিতে আগুন, ওর অঙ্গ-সঞ্চালনে ভূমিকম্প!” নবাবের সকল চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রধান বিদ্রোহিণী ঘসেটি বেগম।

স্বার্থান্বেষী : স্নেহময়ী নারীর কোনাে স্বভাববৈশিষ্ট্য ঘসেটির মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই তিনি মানবী নন, দানবী। সিরাজ তাকে মায়ের সম্মান দিলেও ঘসেটির মধ্যে মায়ের স্নেহ ছিল না, ছিল তীব্র প্রতিহিংসা। এক স্বার্থান্বেষী, প্রতিহিংসাপরায়ণা, কূট নারী হিসেবেই নাট্যাংশে ঘসেটির উপস্থিতি।

প্রশ্নঃ সিরাজদ্দৌলা নাট্যাংশে লুৎফা চরিত্রটি বিশ্লেষণ করাে।

উত্তর : লুৎফার পরিচয় : বিশিষ্ট নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘ সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশের এক বিশেষ নারীচরিত্র লুৎফা তথা লুৎফাউন্নিসা। লুৎফা নবাব সিরাজের মহিষী। নাট্যাংশে সংক্ষিপ্ত উপস্থিতিতে লুৎফা এক বিশেষ চরিত্রবৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন।

সরলতা : নাট্যাংশে দেখা যায়, সভাসদদের সঙ্গে মানসিক সংঘর্ষে সিরাজ যখন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত; তখন লুফার আবির্ভাব ঘটে। নবাবের বেগম হয়েও সহজসরল লুৎফা রাজনীতির বৃত্তে না ঢুকে সাংসারিক বৃত্তেই আবর্তিত হয়েছেন। তাই ঘসেটি তাকে নবাব মহিষী বলে ব্যঙ্গ করলে লুৎফা বলেন নবাব মহিষী নই মা, তােমার কন্যা। সাধারণ নারীর মতােই অভিশাপ সহ্য করতে না পেরে ঘসেটিকে তার প্রাসাদে ফিরে যেতে দেওয়ার প্রার্থনা করেন।

সহমর্মিতা : কোমল-হৃদয় লুৎফা নবাবের চোখে জল দেখে বেদনার্ত হয়ে ওঠেন। নবাবের অমঙ্গল চিন্তায় লুৎফা আতঙ্কিত। লুৎফার কাছে রাজনীতি নয়, প্রাধান্য পেয়েছে স্বামীর কল্যাণ। বয়ােজ্যেষ্ঠ ঘসেটিকে ‘মা’ বলে সম্মান করেছেন কিন্তু মায়ের স্নেহের পরিবর্তে যখন প্রতিহিংসার কথা শুনেছেন তখন ঘসেটির উপস্থিতি তার কাছে যন্ত্রণাদায়ক হয়ে উঠেছে।

সাধারণ নারীচরিত্র : বেগমসুলভ কোনাে অহংকার লুঙ্কার মধ্যে নেই। তাই তিনি পলাশির আসন্ন যুদ্ধের কথা শুনে বিচলিত হয়ে ওঠেন। সাধারণ নারীর মতােই তিনি স্বামী সিরাজ আসন্ন যুদ্ধে অবতীর্ণ হােক তা চান না। এভাবে নাট্যকার লুৎফা চরিত্রটিকে এক সাধারণ কোমল নারী। চরিত্র হিসেবেই যত্নসহকারে উপস্থাপন করেছেন।

আরও দেখুন : আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি

প্রশ্ন : “স্পর্ধা তােমাদের আকাশস্পর্শী হয়ে উঠেছে।”—কার স্পর্ধা কীভাবে আকাশস্পর্শী হয়ে উঠেছিল?

উত্তর : বক্তা : শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত “সিরাজদ্দৌলা নাট্যাংশে প্রশ্নোদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলা। এখানে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির স্পর্ধার কথা বলা হয়েছে।
ব্রিটিশ শক্তির স্পর্ধার নমুনা : নবাব সিরাজদ্দৌলার কলকাতা জয়ের সংবাদ পেয়ে লর্ড ক্লাইভ এবং কলকাতার অ্যাডমিরাল ওয়াটসন কলকাতা পুনর্দখল করলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং নবাবের মধ্যে আলিনগরের সন্ধি’ স্বাক্ষরিত হয়। সন্ধির শর্তরক্ষার জন্য ওয়াটসকে মুর্শিদাবাদে রাখা হয়। কিন্তু ঘটনাচক্রে ওয়াটসকে লেখা ব্রিটিশ অ্যাডমিরাল ওয়াটসনের গােপন পত্র সিরাজের হস্তগত হয়। যার মর্মার্থ এই—লর্ড ক্লাইভের নেতৃত্বে, অ্যাডমিরাল ওয়াটসনের উদ্যোগে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ইতিমধ্যেই সৈন্য প্রেরণ করে নবাব বিরােধী যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ক্লাইভের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সন্ধিভঙ্গে উদ্যত। সর্বোপরি নবাবের অন্দরমহলেই ওয়াটসের প্ররােচনায় রাজকর্মচারী অমাত্যবর্গ, মীরজাফর, জগৎশেঠ, রাজবল্লভ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ নবাব বিরােধী গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তাই বাণিজ্যের স্বার্থে আসা ইংরেজের সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসী মনােভাব দেখে ব্রিটিশ প্রতিনিধি ওয়াটসের সামনে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে উদ্দেশ করে। নবাব সিরাজ আলােচ্য উক্তিটি করেছেন।

সিরাজদ্দৌলা – মাধ্যমিক বাংলা

প্রশ্ন : “কিন্তু ভদ্রতার অযােগ্য তােমরা”—কাকে উদ্দেশ করে কথাটি বলা হয়েছে? এ কথা বলার কারণ কী?

উত্তর : উদ্দিষ্ট ব্যক্তি:নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশে মুরশিদাবাদের নবাব সিরাজদ্দৌলা, তার দরবারে উপস্থিত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি ওয়াটসের উদ্দেশে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।

বলার কারণঃ নবাব সিরাজদ্দৌলার কলকাতা
জয়ের সংবাদ পেয়ে লর্ড ক্লাইভ এবং কলকাতার অ্যাডমিরাল ওয়াটসন কলকাতা পুনর্দখল করলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং নবাবের মধ্যে আলিনগরের সন্ধি’ স্বাক্ষরিত হয়। সন্ধির শর্তরক্ষার জন্য ওয়াটসকে মুর্শিদাবাদে রাখা হয়। কিন্তু ঘটনাচক্রে ওয়াটসকে লেখা ব্রিটিশ অ্যাডমিরাল ওয়াটসনের গােপন পত্র সিরাজের হস্তগত হয়। যার মর্মার্থ এই—লর্ড ক্লাইভের নেতৃত্বে, অ্যাডমিরাল ওয়াটসনের উদ্যোগে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ইতিমধ্যেই সৈন্য প্রেরণ করে নবাব বিরােধী যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ক্লাইভের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সন্ধিভঙ্গে উদ্যত। সর্বোপরি নবাবের অন্দরমহলেই ওয়াটসের প্ররােচনায় রাজকর্মচারী অমাত্যবর্গ, মীরজাফর, জগৎশেঠ, রাজবল্লভ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ নবাব বিরােধী গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তাই বাণিজ্যের স্বার্থে আসা ইংরেজের সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসী মনােভাব দেখে ব্রিটিশ প্রতিনিধি ওয়াটসের সামনে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে উদ্দেশ করে। নবাব সিরাজ আলােচ্য উক্তিটি করেছেন।

প্রশ্ন : “মুন্সিজি, এই পত্রের মর্ম সভাসদদের বুঝিয়ে দিন।”—কে, কাকে পত্র লিখেছিলেন? এই পত্রে কী লেখা ছিল?

উত্তর : পত্ৰপ্রেরক ও প্রাপক : বিশিষ্ট নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশে মুরশিদাবাদের নবাব সিরাজের রাজদরবারে, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রেরিত প্রতিনিধি ওয়াটসকে পত্র লিখেছিলেন ব্রিটিশ অ্যাডমিরাল ওয়াটসন।

পত্রের মর্মার্থ :বাংলার মসনদলাভের প্রথম লগ্ন থেকেই বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজকে অসংখ্য পারিপার্শ্বিক এমনকি অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং বহির্সংঘাত অতিক্রম করতে হয়েছিল। একদিকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাম্রাজ্যবিস্তার নীতি, অন্যদিকে তাদেরই প্ররােচনায় নবাব সিরাজের আত্মীয়পরিজন, অমাত্যবর্গ নবাব-বিরােধী গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল। এমনকি আলিনগরের সন্ধিরক্ষার্থে নবাব-দরবারে। প্রেরিত ব্রিটিশ প্রতিনিধি ওয়াটসও যােগ দিয়েছিল নবাব-বিরােধী চক্রান্তে। অ্যাডমিরাল ওয়াটসনের সঙ্গে চিঠির আদানপ্রদানে বাংলাকে যুদ্ধের ভয়ংকর আগুনে দগ্ধ করতে চেয়েছিল তারা। নবাবের হস্তগত ওয়াটস ও ওয়াটসনের পরস্পরকে প্রেরিত সেই পত্রদুটির শেষ কয়েকটি ছত্র নবাবের আদেশে অনুবাদ করে শুনিয়েছিলেন মুন্সিজি। তার মর্মার্থ এই যে, ক্লাইভ প্রেরিত সৈন্য শীঘ্রই কলকাতায় পৌঁছােবে। সেনাপতি -ওয়াটসন মাদ্রাজে জাহাজ পাঠিয়ে জানিয়ে দেবেন কলকাতায় আরও সৈন্য ও জাহাজ পাঠানাে প্রয়ােজন। তার উদ্যোগে বাংলায় এমন যুদ্ধের আগুন জ্বলে উঠবে যে গঙ্গার সমস্ত জল দিয়েও সেই আগুন নেভানাে যাবে না। অর্থাৎ সৈন্যসমাবেশে বাংলা দখলই সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজের মূল লক্ষ্য ছিল সেদিন।

প্রশ্ন : এই মুহূর্তে তুমি আমার দরবার ত্যাগ করাে।’— কাকে দরবার ত্যাগ করতে বলা হয়েছে? তার দরবার ত্যাগ করার পিছনে যে কারণ আছে, তা বিশ্লেষণ করাে।

উত্তর : যার কথা বলা হয়েছে : নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের -“সিরাজদ্দৌলা নাট্যাংশে মুরশিদাবাদের নবাব সিরাজদ্দৌলা তার দরবারে উপস্থিত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি ওয়াটসকে দরবার ত্যাগ করতে বলেছেন।

দরবার ছাড়তে বলার কারণ : ভারতে ইংরেজরা বণিকরূপে আসলেও ক্রমে তারা শক্তি বৃদ্ধি করতে শুরু করে। নবাবের দরবার এমনকি অন্দরমহলে পর্যন্ত তারা ষড়যন্ত্রের বিষ ছড়িয়ে দেয়। ইংরেজের এই অভিপ্রায় দমন করতে সিরাজ কলকাতা জয় করেন। সিরাজ ও কোম্পানির মধ্যে সন্ধির শর্ত রক্ষার প্রতিভূ করে ওয়াটসকে মুর্শিদাবাদে রাখা হয়। কিন্তু দেখা যায়, কূটনৈতিক ইংরেজ তারই মারফত বাংলা দখলের মতলব করছে। ঘটনাচক্রে ওয়াটসকে লেখা অ্যাডমিরাল ওয়াটসনের গােপন পত্র এবং ওয়াটস-এর জবাবিপত্র
নবাবের হস্তগত হয়। নবাব বুঝতে পারেন ওয়াটসন সৈন্যসমাবেশ ঘটিয়ে বাংলায় এমন আগুন জ্বালাতে চান, যা গঙ্গার সমস্ত জল দিয়েও নেভানাে যাবে না। ওয়াটসের জবাবিপত্রে ছিল সেই নিশানা—নবাবের উপর নির্ভর করা অসম্ভব। চন্দননগর আক্রমণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
এদিকে ফরাসি প্রতিনিধি মসিয়ে লা-ও ইংরেজ আগ্রাসন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নবাবের থেকে সাহায্য চেয়ে তার দরবারেই উপস্থিত। অতএব ইংরেজের স্পর্ধা, ঔদ্ধত্য ও দুরভিসন্ধি দেখে ক্ষুব্ধ নবাব ওয়াটসকে দরবার ত্যাগ করার নির্দেশ দেন।

প্রশ্ন : ‘তােমাদের কাছে আমি লজ্জিত।’—বক্তা কাদের কাছে কেন লজ্জিত তা সিরাজদ্দৌলা নাট্যাংশ অনুসরণে আলােচনা করাে। অথবা ,

প্রশ্নঃ আমার এই অক্ষমতার জন্যে তােমরা আমাকে ক্ষমা করাে।’—বক্তা কাদের কাছে, কোন্ অক্ষমতা প্রকাশ করেছেন?উত্তর : বিশিষ্ট নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশে প্রশ্নোধৃত উক্তিটির বক্তা নাট্যাংশের কেন্দ্রীয় চরিত্র তথা বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলা ফরাসিদের কাছে লজ্জিত।
লজ্জার কারণ : নবাব সিরাজদ্দৌলা বাংলাদেশে বাণিজ্য করতে আসা ফরাসি গােষ্ঠীর প্রতিনিধি মসিয়ে লা-র কাছে লজ্জা প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশে বাণিজ্য করার অনুমতি ব্রিটিশ ও ফরাসি উভয় জাতির কাছেই ছিল, যদিও তাদের কিছু শর্ত মেনে চলতে হত। ফরাসিরা অত্যন্ত সতর্কভাবে সেইসকল শর্ত মেনে ও নবাবকে খুশি রেখেই বাণিজ্য চালাচ্ছিল। কিন্তু বহু আগে থেকে সমুদ্রপারে নিজেদের দেশে ইংল্যান্ডের সঙ্গে ফ্রান্সের যুদ্ধের জেরে ব্রিটিশরা নবাবকে না জানিয়েই বাংলায় ফরাসিদের ঘাঁটি চন্দননগর আক্রমণ করে। সমস্ত ফরাসি বাণিজ্যকুঠির উপর তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে তারা ব্যস্ত হয়ে ওঠে। এই অবস্থায় ফরাসিরা সুবিচার প্রত্যাশা করে নবাবের কাছে সাহায্যের আবেদন জানায়। কিন্তু সেইসময় যুদ্ধবিধ্বস্ত নবাবের ব্রিটিশদের সঙ্গে সামনাসামনি যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার মতাে অর্থবল ও লােকবল ছিল না। তাই ইংরেজদের অন্যায় জেনেও ফরাসিদের সাহায্য করতে না পারার হতাশা থেকেই তিনি লজ্জাবােধ করেন।

সিরাজদ্দৌলা – মাধ্যমিক বাংলা

প্রশ্ন : “তােমার কথা আমার চিরদিনই মনে থাকবে “।—কার প্রতি, কে এই উক্তি করেছেন? বা তাকে চিরদিন মনে রাখবেন কেন?

উত্তর: শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশ থেকে গৃহীত উদ্ধৃতিটির বন্যা বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলা। তিনি তার মুর্শিদাবাদের দরবারকক্ষে হাজির ফরাসি প্রতিনিধি মসিয়ে লা-কে উদ্দেশ্য করে উক্তিটি করেন।

চিরদিন মনে রাখার কারণ : ইংরেজ ও ফরাসি দুই জাতি নবাবের অনুমতি নিয়ে কলকাতা ও চন্দননগরে কুঠি স্থাপন করে বাণিজ্য করত। সমুদ্রপারে নিজেদের দেশে ইংরেজদের সঙ্গে ফরাসিদের পুরােনাে বিবাদের কথা নবাব সিরাজদ্দৌলা জানতেন। ইংরেজরা বিনা অনুমতিতে চন্দননগর আক্রমণ করলে ফরাসি প্রতিনিধি মসিয়ে লা সাহায্য প্রার্থনা করে নবাবের দরবারে হাজির হয়। ক্রমাগত যুদ্ধে লােকক্ষয় ও অর্থব্যয়ের কারণে এবং ইংরেজদের বিরুদ্ধে সরাসরি
যুদ্ধ করার অনিচ্ছা থেকে সিরাজ ফরাসিদের সাহায্য করতে না পারার জন্য আক্ষেপ প্রকাশ করেন। মসিয়ে লা নবাবের এ বক্তব্যে খুশি হতে না পারলেও, ইংরেজদের দ্বারা যে নবাবের বিপদ আসন্ন সে সম্পর্কে তাকে সচেতন করে দেন। ফরাসি প্রতিনিধি মসিয়ে লা’র আনুগত্য ও নবাবের প্রতি দায়িত্ববােধের পরিচয় পেয়ে মসিয়ে লা-কে নবাব সিরাজদ্দৌলা জানান যে তার কথা তিনি সারাজীবন মনে রাখবেন।

প্রশ্ন : “আর কত হেয় আমাকে করতে চান আপনারা?’—বক্তা কে? আপনারা কারা? তারা কীভাবে বক্তাকে হেয়। করেছেন ?
উত্তর :

বক্তা:শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ঐতিহাসিক নাটক ‘সিরাজদ্দৌলা’ থেকে গৃহীত আলােচ্য উক্তিটির বক্তা বাংলার নবাব সিরাজদ্দৌলা।

আপনারা বলতে যাদের বলা হয়েছে : “আপনারা’ বলতে নবাব তাঁর রাজসভায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী সভাসদ যেমন— সিপাহসালার মীরজাফর, প্রতাপশালী বণিক জগৎশেঠ, রায়দুর্লভ এবং রাজবল্লভ প্রমুখকে বুঝিয়েছেন। এরাই সিরাজদ্দৌলার বিরুদ্ধে প্রধান চক্রান্তকারী।

যেভাবে হেয় করেছেন : এই সমস্ত প্রভাবশালী, শক্তিধর, বিত্তবান মানুষরা বাংলার তরুণ নবাব সিরাজকে ন্যূনতম শ্রদ্ধা-ভক্তি, সম্মান করতেন না। স্বার্থলােভী এই মানুষগুলাে সিরাজকে খেলার পুতুলের মতাে ব্যবহার করতে আগ্রহী ছিলেন। নবাবের এককালের হঠকারিতা, বিলাসব্যসন ও চারিত্রিক দুর্বলতাকে হাতিয়ার করে তারা বারবার নবাবকে অপমান ও অসম্মান করতেন। পাশাপাশি কোম্পানির
সঙ্গে গভীর ষড়যন্ত্রেও তারা লিপ্ত ছিলেন।এইভাবে তারা সমগ্র দেশে এমনকি রাজসভার অভ্যন্তরে
নবাবের ভাবমূর্তিকে বিনষ্ট করেছেন, অন্যান্য কর্মচারীদের মনে নবাব সম্পর্কে অশ্রদ্ধা এনে দিয়েছেন, নবাবের আত্মীয়স্বজনের মনও বিষিয়ে দিয়েছেন। সিরাজ তার নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযােগ নতমস্তকে স্বীকার করলেও রাজবল্লভ, জগৎশেঠ, মীরজাফর বাহিনী তাকে অবমাননা করা বন্ধ করেনি। তাই বাধ্য হয়ে সিরাজদ্দৌলা তাদের
প্রতি উদ্ধৃত প্রশ্নটি করেছেন।

প্রশ্ন : “আমরা নবাবের নিমক বৃথাই খাই না, এ কথা তাদের মনে রাখা উচিত”–‘আমরা’ বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে? তাঁদের এ কথা বলার কারণ কী?
অথবা, এ কথা তাদের মনে রাখা উচিত।’—কাদের, কোন কথা মনে রাখা উচিত? উক্তিটির মধ্য দিয়ে বক্তার চরিত্রের কোন দিকটি প্রকাশিত হয়?

উত্তর : আমরা : শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশ থেকে গৃহীত উক্তিটির বক্তা নবাবের একান্ত অনুগত, বিশ্বস্ত এবং দেশভক্ত সেনাপতি মীরমদন। আমরা বলতে মীরমদন এবং মােহনলাল-সহ নবাবের অনুগত বৃন্দকে বােঝানাে হয়েছে।
এই কথা বলার কারণ : নবাব যখন দরবারে বহু সমস্যায় জর্জরিত তখন মীরজাফর , রাজবল্লভ প্রমুখ নবাব-বিরােধী বিশ্বাসঘাতকের দল, নবাবের অন্নে প্রতিপালিত হয়ে নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে, নবাবকে সিংহাসন থেকে উৎখাতের চেষ্টা করে বাংলার সম্মান ও স্বাধীনতা বিপন্ন করতে উদ্যোগী। নবাবকে , অসহায় মনে করে মীরজাফর নবাবের সম্মুখে দাঁড়িয়ে উচ্চকণ্ঠে তাকে অসম্মান করলে মীরমদন তাদের মনে করিয়ে দিতে চান যে, নবাব নিতান্ত অসহায় নন, তার মর্যাদারক্ষার জন্য মােহনলাল বা তার মতাে অনুগতরা এখনও জীবিত।
বক্তা মীরমদন সিপাহসালার মীরজাফর এবং তার সঙ্গীদের ঔদ্ধত্য মেনে নিতে পারেন না। তিনি জানান নবাবের সেনাপতি, আমির ওমরাহ, রইস রাজা প্রমুখরা নবাবকে দুর্বল মনে করলেও তাদের মতাে অনুগতরা এখনও আছেন নবাবকে রক্ষা করার জন্য। তারা নবাবের অন্নে প্রতিপালিত হয়ে তার বিরুদ্ধাচারণ কোনােভাবেই করবেন না। এ থেকে বােঝা যায়, বেইমানি ও বিশ্বাসঘাতকতা তার রক্তে নেই। এটি তার চরিত্রের এক পূর্ণ ইতিবাচক দিক।

সিরাজদ্দৌলা – মাধ্যমিক বাংলা

প্রশ্ন : ” আজ বিচারের দিন নয়, সৌহার্দ্য স্থাপনের দিন’—কার প্রতি, কার উক্তি? কোন কথার উত্তরে এমন উক্তি? বক্তার এমন উক্তির কারণ কী?

উত্তর : নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজদ্দৌলা নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলা তার বিদ্রোহী সেনাপতি মীরজাফরের প্রশ্নের উত্তরে এই উক্তিটি করেছেন।

প্রসঙ্গ : নবাবের বিরুদ্ধে গােপন যড়যন্ত্রে লিপ্ত মীরজাফরকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি ওয়াটস একটি গােপন পত্র লিখলে সেই পত্র নবাবের হস্তগত হয়। এই ঘটনায় নবাব তার বিশ্বস্ত সেনাপতির বিশ্বাসঘাতকতার পরিচয় পান। মীরজাফর নবাবের কাছে জানতে চান এই অপকর্মের জন্য নবাব প্রকাশ্য দরবারে তার বিচার করতে চান কিনা? মীরজাফরের এই প্রশ্নের উত্তরে নবাব এই উক্তিটি করেছেন।কারণ : বিচক্ষণ নবাব তীক্ষ দূরদৃষ্টি দিয়ে বুঝতে পেরেছিলেন শুধু ইংরেজরাই নয়, তার দরবারের ঘনিষ্ঠ সভাসদরাও তার বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্তে লিপ্ত। এরকম পরিস্থিতিতে ইংরেজদের চক্রান্ত থেকে বাংলাকে রক্ষা করতে হলে সভাসদদের পারস্পরিক সম্প্রীতিই একমাত্র উপায় তা নবাব উপলব্ধি করেন। তাই তিনি তার সেনাপতি বিশ্বাসঘাতক জেনেও তার বিচার না করে তাকে ক্ষমা করে দেন। তিনি ক্ষমা, প্রেম ও ঐক্যের বন্ধনে বাঁধতে চান সকল সভাসদদের। তিনি জানেন একমাত্র সম্মিলিত ঐক্য ও সৌহার্দ্যই বাংলাকে রক্ষা করতে পারবে বিদেশী শক্তির হাত থেকে।

প্রশ্ন : ” আপনাদের কাছে এই ভিক্ষা যে, আমাকে শুধু এই আশ্বাস দিন…’—কাদের কাছে বক্তা ভিক্ষা চান? তিনি কী আশ্বাস প্রত্যাশা করেন?

উত্তর : যাদের প্রতি উক্তি : নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত “সিরাজদ্দৌলা নাটকের প্রধান চরিত্র বাংলার নবাব সিরাজদ্দৌলা তার সভায় উপস্থিত রাজবল্লভ, মীরজাফর, জগৎ শেঠ, রায়দুর্লভ প্রমুখ বিশিষ্ট সদস্যবর্গের প্রতি উক্ত উক্তিটি করেছেন।

তিনি যে আশ্বাস প্রত্যাশা করেন : দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নবাব সিরাজদ্দৌলা বুঝতে পেরেছিলেন ইংরেজদের বিছানাে চক্রান্তের জাল তার রাজসভার অন্দরমহল পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। তার অনুগত সভাসদরাই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তাকে সিংহাসনচ্যুত করতে উদ্যত। শুধু রাজদরবারেই নয়, বাইরে সমগ্র বাংলার উপর ইংরেজরা নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে গােপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বাংলায় সৈন্য ও জাহাজ সমাবেশ করে ইংরেজরা যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করেছে। এমন অবস্থায় রাজদ্রোহী প্রজাদের উপযুক্ত শাস্তিদানের চেয়ে ইংরেজ দমন করে বাংলার স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করা সিরাজের কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। তাই তিনি তার সভাসদদের কাছ থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলার এই দুর্দিনে তার পাশে থাকার আশ্বাস প্রত্যাশা করেছেন। বাংলার লুপ্ত গৌরব ফিরিয়ে আনতে, স্বাধীনতা রক্ষা করতে শক্তি দিয়ে, বুদ্ধি দিয়ে তাদের সর্বতােভাবে বাংলার পাশে থাকতে
অনুরােধ করেছেন নবাব।

সিরাজদ্দৌলা - মাধ্যমিক বাংলা
সিরাজদ্দৌলা – মাধ্যমিক বাংলা

প্রশ্ন : “বাংলার এই দুর্দিনে আমাকে ত্যাগ করবেন না।” – কাদের উদ্দেশে একথা বলা হয়েছে? কোন দুর্দিনের জন্য তাঁর এই আবেদন?
অথবা, বাংলার মান, বাংলার মর্যাদা, বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার প্রয়াসে আপনারা আপনাদের শক্তি দিয়ে, বুদ্ধি দিয়ে, সবরকমে আমাকে সাহায্য করুন।’—সিরাজ কাদের কাছে এই সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন? কেন তিনি এই সাহায্যের প্রত্যাশী হয়েছেন?
উত্তর :

দুর্দিনের স্বরূপ : সিরাজের বাংলার মসনদে বসার পনেরাে মাস তখনও অতিক্রান্ত হয়নি। অথচ মসনদপ্রাপ্তির কারণেই ঘরেবাইরে তাকে নানা প্রতিরােধে ক্ষতবিক্ষত হতে হয়। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন—মসনদ নিয়ে যে চক্রান্ত তার থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ইংরেজ দমন। ইংরেজরা নবাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য যে সৈন্যসমাবেশ করছে, তা ওয়াটসনের পত্রে প্রমাণিত। বিচক্ষণ নবাব অনুভব করতে পেরেছিলেন, এদেশে ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে ইংরেজরা। তাদের জাল ছড়িয়ে পড়েছে তার দরবার পর্যন্ত। তার মনে হয়েছিল বাংলার উপরে ঘনিয়ে আসছে ঘাের দুর্দিন। ইংরেজদের চক্রান্তে ঘনিয়ে আসা বাংলার এই দুর্দিনের হাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করতে সিপাহসালার মীরজাফর ও তার সঙ্গী ষড়যন্ত্রকারীদেরও তিনি একজোট করতে চেয়েছিলেন।

সিরাজদ্দৌলা – মাধ্যমিক বাংলা

****প্রশ্ন : বাংলা শুধু হিন্দুর নয়, বাংলা শুধু মুসলমানের নয়—মিলিত হিন্দু-মুসলমানের মাতৃভূমি গুলবাগ এই বাংলা।”—কাদের উদ্দেশ করে একথা বলা হয়েছে? এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে বক্তার কী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে?
উত্তর :

চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য : উদ্ধৃত উক্তিটির মধ্যে দিয়ে বাংলার নবাব সিরাজদ্দৌলার ধর্মনিরপেক্ষতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিচয় পাওয়া যায়। বিচক্ষণ নবাব বুঝতে পেরেছিলেন বাংলা শুধু হিন্দুর নয়, শুধু মুসলিমদেরও নয়। হিন্দু ও মুসলিম উভয়ের সম্মিলিত শান্তিপূর্ণ অবস্থানেই বাংলার ঐক্যের সূত্রটি গাঁথা। তাই তিনি জানেন হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকলের ঐক্য ও সম্প্রীতির মাধ্যমেই বাংলার উপর ঘনিয়ে আসা রাজনৈতিক দুর্যোগ দূর করা সম্ভব হবে। বহিরাগত ইংরেজদের দূর করতে বাংলার মানুষকে সংকীর্ণ ধর্মের গণ্ডি অতিক্রম করে পরস্পর ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নবাব সিরাজের এই উদার ধর্মচেতনা ও সম্প্রীতির মনােভাব তার চরিত্রের উদারতা ও পরধর্মসহিতার পরিচয় দেয়।

প্রশ্ন : “বাংলার ভাগ্যাকাশে আজ দুর্যোগের ঘনঘটা
উক্তিটির বক্তা কে? বক্তার এমন উক্তির কারণ কী?
অথবা, ‘জাতির সৌভাগ্য-সূর্য আজ অস্তাচলগামী;
বক্তার এই উক্তির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করাে

উত্তর : বক্তা : বিশ্বাসঘাতকদের চক্রান্তে দেশের স্বাধীনতা কীভাবে বিঘ্নিত হয়, বাংলায় কীভাবে ঘনিয়ে আসে বিপর্যয়, কীভাবে বাংলার শ্যামল প্রান্তর রক্তরাঙা হয়ে ওঠে—শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা পাঠ্যাংশে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলার আলােচ্য উক্তিতে তারই ইঙ্গিত মেলে।

কারণ : মাত্র পনেরাে মাস রাজত্ব সামলেই সিরাজ বুঝতে পারেন এক গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে তার চারপাশ বেশ কিছু বিশ্বাসঘাতকে ভরে গিয়েছে। নবাবের বিরুদ্ধে এই চক্রান্তের একদিকে ছিল তার মাসি ঘসেটি বেগম এবং অন্যদিকে মীরজাফর, রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ, জগৎশেঠের দল। অল্পদিনেই তিনি মানুষের নির্মমতার পরিচয় পেয়েছেন, দেশ ও জাতির স্বরূপ উপলব্ধি করেছেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্রমে ক্রমে সৈন্যসমাবেশ করেছে, ক্রমে তারা উদ্ধত হয়ে নবাবকে অস্বীকার করে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করেছে। সিরাজ বুঝেছেন তার বিশ্বাসঘাতক পারিষদদের সহযােগিতায় বাঙালি জাতির স্বাধীনতার সূর্য অস্ত যেতে বসেছে। বাংলার ভাগ্যাকাশে আসন্ন বিপদের ঘন কালাে মেঘ দেখা দিয়েছে। তবু তিনি তাদের শাস্তি না দিয়ে সম্মিলিত ভাবে কোম্পানির শক্তিকে পরাস্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতির স্বাধীনতাকে তিনি সূর্যের মতাে তীব্র উজ্জ্বল রূপে দেখতে চেয়েছেন। জাতির স্বাধীনতাকেই নবাব জাতির সৌভাগ্য বলে বিবেচনা করেছেন।