Amazing Khajoor Benefits

Amazing Khajoor Benefits : খেজুরের বিস্ময়কর উপকারিতা : মাত্র ৭ দিন তিনটি করে খেজুর খেলে শরীরের অনেক রোগ হবে নির্মূল! ক্যানসার, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ব্লাড প্রেসার ইত্যাদি।

পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে হালকা গরম দুধ স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। দুধের ট্রিপটোফ্যান নামক অ্যামিনো অ্যাসিড থেকে সেরোটনিনের [ প্রাকৃতিক উপায়ে সেরোটোনিন বাড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো, প্রতিদিন শরীরচর্চা করা। এমনকি ১০ মিনিট দ্রুত হাঁটলেও মেজাজ ভালো হয়ে যেতে পারে। মানসিক স্থিরতার জন্য সকালের নির্মল পরিবেশে হাঁটাই অধিক ফলপ্রসূ। স্বাস্থ্যকর, উচ্চ আঁশের কার্বোহাইড্রেট খেলেও সেরোটোনিন বাড়ে ] সূত্রপাত ঘটে। এটা মস্তিষ্কে যে সংকেত পাঠায়, তা স্নায়বিক উত্তেজনা প্রশমনে সাহায্য করে। হয়তো এ কারণে দুধ খেলে সহজে ঘুম আসে। দুধ যেমন উপকারী, তেমনি ড্রাই ফ্রুটস হিসেবে খেজুরের পুষ্টিগুণ পুরুষ মহিলা উভইয়ের জন্যই উপকারী। আয়রনে ভরপুর খেজুর, হার্ট, উচ্চ রক্তচাপ, কোষ্ঠকাঠিন্যসহ একাধিক সমস্যা ঠেকাতে কার্যকর। এই ফল পুরুষদের যৌন স্বাস্থ্যের উন্নতি করে, শুক্রাণুর সংখ্যাও বাড়ায়।খেজুরে রয়েছে ভিটামিন B6 যা শরীরকে সেরোটোনিন এবং নরপাইনফ্রিন তৈরি করতে সাহায্য করে। সেরোটোনিন রাগ নিয়ন্ত্রণ করে এবং নোরপাইনফ্রাইন শরীরকে চাপ মোকাবিলায় সহায়তা করে। তাহলে এখন জেনে নেওয়া যাক ( Amazing Benefits of Khajoor) খেজুরের আশ্চর্যজনক গুনাবলী।

খেজুরের পুষ্টিগণ অতুলনীয়। ক্যালোরি ২৭৭ গ্রাম, ১.৮১ গ্রাম প্রোটিন, মোট চর্বি ০.১৫ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৭৫ মিলিগ্রাম, ফাইবার ৬.৭ গ্রাম, খেজুরে ৩% ভিটামিন এ রয়েছে। এছাড়াও ভিটামিন বি রয়েছে ৬০.২৫ মিলিগ্রাম, ম্যাঙ্গানিজ ০.৩ মিলিগ্রাম, তামা ০.৩৬ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ৫৪ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ৬৯৬ মিলিগ্রাম। নানান খনিজ সমৃদ্ধ এই খেজুর বিশেষ করে পুরুষ দেহে নানান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলির কারণে এটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ থেকে মুক্তি পেতে উপকারী। এর মধ্যে রয়েছে ক্যানসার, ডায়াবেটিস, আলঝাইমার এবং হৃদরোগ। খেজুরের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি দীর্ঘস্থায়ী অবস্থার উন্নতির জন্য ভালো বলে বিবেচিত হয়।

Amazing Khajoor Benefits

খেজুর ব্যবহার করলে ত্বকে স্থিতিস্থাপকতা, আর্দ্রতা এবং উজ্জ্বলতা নিয়ে আসে। এতে উপস্থিত ভিটামিন সি এবং ডি ত্বক শিথিল হওয়া রোধ করতে কার্যকরি ভূমিকা নেয়। শুধু এটিই নয়, খেজুরগুলিতে উপস্থিত অ্যান্টি-এজিং বৈশিষ্ট্যগুলি শরীরে মেলানিন সংগ্রহ করতে দেয় না। এটি আপনার ত্বককে দীর্ঘ সময়ের জন্য যুবক রাখে। পুরুষ ত্বকের যত্নে খেজুর ভীষণ ভাবে কার্যকরী। পুরুষরা সাধারণত ত্বকের জন্য কিছুই করেনা। সেক্ষেত্রে নিয়মিত খেজুর খেলে ত্বক ভেতর থেকে ভালো থাকবে।

Also Read: Symptoms of Hormonal Imbalance



খেজুরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি ডায়াবেটিসের চিকিত্সায় সহায়তা করে। এই ফলটি ইনসুলিন সিক্রেটে অগ্ন্যাশয়ের কার্যকারিতা উন্নত করতে পারে। পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবারের উপস্থিতি একজন ব্যক্তির রক্তে শর্করার মাত্রা স্থির রাখে।

খেজুরে পাওয়া যায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার অনেকগুলি রোগ নিরাময় করতে পারে। এটি খেলে ডায়াবেটিস, স্থূলত্ব এবং হৃদরোগ নিরাময় হয়। একই সাথে এটি পেটের ক্যানসার এবং আলসারের মতো অবস্থার ঝুঁকি হ্রাস করতে সহায়তা করে। আফ্রিকায় দেখা গেছে পুরুষ বন্ধ্যাত্বের জন্য সেখানকার লোকেরা দীর্ঘ দিন ধরে খেজুর । তবে বিশেষজ্ঞদের মতে এই বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজনে। শোনা যায় খেজুর ফুলের পরাগরেণু বন্ধ্যাত্ব দূর করে, শুক্রাণু বৃদ্ধি করে। খেজুর ও এর ফুলে থাকা পরাগরেণু DNA এর গুণগত মান উন্নত করে কোষের শক্তি বাড়ায়। পুরুষদের কাজের চাপে অনেক সময় শরীর দুর্বল লাগে সেক্ষেত্রে কয়েকটি খেজুর খেয়ে নিলেই ফিরে পাবে আগের এনার্জি।

খেজুরে থাকা পটাশিয়াম ও সোডিয়াম দেহে উচ্চ রক্তচাপ কমায়। ও বাজে কোলেস্টেরল দূর করে ও শরীরে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়। খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম এবং খুব অল্প পরিমাণে সোডিয়াম। প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার অভ্যাস দেহের খারাপ কলেস্টোরল কমায় এবং ভালো কলেস্টোরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে।
বেশিরভাগ পুরুষদের ক্ষেত্রে দেখা যায় অত্যাধিক কলেস্টেরলের কারণে হার্টের সমস্যা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে প্রতিদিন রাতে শোয়ার আগে এক গ্লাস জলে খেজুর ভিজিয়ে রাখুন। এবার সকালে উঠে সেই জল পান করলে হার্টের সমস্যা কমবে। খেজুর হৃৎপিণ্ডের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। রক্তপ্রবাহে গতি সঞ্চার করে। শরীরে সোডিয়াম-পটাশিয়ামের সমতা রক্ষা করে। খেজুরে আছে এমন সব পুষ্টিগুণ, যা খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে।
দুধ ও খেজুর- উভয়েই রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রনের মাত্রা। এই দুটি জিনিস একসঙ্গে মিশলে আয়রনের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তে হিমোগ্লোবিন ও প্রোটিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। একটি গবেষণায় জানা গিয়েছে, দুধের মধ্যে দুটি করে খেজুর দিয়ে ফোটানো হলে, সেই উপাদেয় খাবারটি সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর বলে মানা হয়। খালি পেটে একটি নির্দিষ্টি সময়ে এই উপকারী পানীয় খেতে পারেন। মাত্র ১০ দিনে রক্তাল্পতার সমস্যা উধাও হবে।

তাই আর দেরি না করে, আজ থেকে শুরু করুন খেজুর খেতে। নিয়মিত ৭ দিন খেজুর খেলেই আপনি এর উপকারিতা সম্পর্কে অবহিত হবেন।