প্রাচীন ভারতে সামন্ততন্ত্র

একাদশ শ্রেণীর ইতিহাস | অর্থনীতির বিভিন্ন দিক|প্রাচীন ভারতে সামন্ততন্ত্র

ভারতের সামন্তপ্রথার বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করাে।

প্রাচীন ও মধ্যযুগে ইউরােপে সামন্ততান্ত্রিক অর্থনৈতিক কাঠামাে অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ইউরোপের কাঠামাের মতাে না হলেও প্রাচীন এবং মধ্যযুগের ভারতে সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকাশ ঘটে বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক যুক্তি দিয়ে দেখিয়েছেন। ভারতে সামন্তপ্রথার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। যেমন一

[1] স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রামজীবন: সামন্ততান্ত্রিক সমাজের একটি উল্লেখযােগ্য বৈশিষ্ট্য হল স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রাম্যজীবন। অর্থাৎ গ্রামে বসবাসকারী সকলের প্রয়ােজনীয় সামগ্রী গ্রামেই উৎপাদিত হত। ভারতীয় সামন্ততন্ত্রের যুগে এদেশে স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রামজীবনের‌ অস্তিত্ব ছিল।

[2] নগরায়ণের অভাব: কৃষি উৎপাদনের জন্য গ্রাম, কৃষক, খামারবাড়ি প্রভৃতি অপরিহার্য। নগরের প্রতিষ্ঠা ও প্রসার সামন্ততন্ত্রের বিরােধী। ভারতীয় সামন্ততন্ত্রের যুগেও গ্রামগুলির বিকাশ ঘটে এবং নগরায়ণের বিকাশ ব্যাহত হয়।

[3] কৃষিভিত্তিক সমাজ: ভারতীয় সামন্তপ্রথায় সমাজ ছিল মূলত কৃষিভিত্তিক। সমাজের নিম্নস্তরের বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল। কৃষিকাজকে কেন্দ্র করে দেশের গােটা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রিত হত। দেশে শিল্প ও বাণিজ্য ছিল গৌণ। শিল্প ও বাণিজ্য যেটুকু ছিল তা মূলত কৃষিপ্রসূত।

[4] ভূমি ও মানুষের সম্পর্ক: ভারতীয় সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থায় উৎপাদন ব্যবস্থার মূল উপকরণ ছিল ভূমি। ভূমিকে কেন্দ্র করেই সমগ্র কৃষিকাজ চলত। তাই স্বাভাবিকভাবেই মানুষ ভূমির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত ছিল।

[5] জমিতে ব্যক্তিগত মালিকানার অভাব: জমিতে কৃষক উৎপাদকের কাজে নিযুক্ত থাকলেও সেই জমিতে কৃষকের ব্যক্তিগত মালিকানা ছিল না। জমির প্রকৃত মালিক ছিল ভূস্বামী বা সামন্তপ্রভু এবং চূড়ান্ত মালিক ছিল রাষ্ট্র।

[6] সেচ ব্যবস্থায় রাস্ত্রীয় নিয়ন্ত্রণ: কৃষিকাজের জন্য কৃষকের জমিতে জলসেচের প্রয়ােজন ছিল। ভারতীয় সামন্ততন্ত্রে এই সেচ ব্যবস্থায় কৃষকের ব্যক্তিগত অধিকার ছিল না। তা রাষ্ট্রের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হত।

[7] প্রভুর শ্রেষ্ঠত্ব: ভারতীয় সামন্ততন্ত্রে কৃষিজমির মালিকানা ছিল সামন্তপ্রভুর হাতে। তাই উৎপাদন ব্যবস্থা তথা সমগ্র অর্থনৈতিক কাঠামােতে স্বাভাবিকভাবেই প্রভুর শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

সুলতানি আমলে ভারতে সামন্ততন্ত্রের অস্তিত্ব সম্পর্কে আলােচনা করাে।

সূচনা: ভারতে সুলতানি শাসনকালে রাজকীয় জমি ছােটোবড়াে বিভিন্ন অংশে ভাগ করে মর্যাদা অনুসারে মুসলিম অভিজাতদের মধ্যে বিলি করা হত। এটি ‘ইক্তা ব্যবস্থা’ নামে পরিচিত। সুলতানি আমলে শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসনের অস্তিত্ব থাকলেও এই ইক্তা ব্যবস্থাকে ভিত্তি করেই সুলতানি শাসনব্যবস্থায় সামন্ততান্ত্রিক কাঠামো গড়ে ওঠে।

[1] ইক্তা ব্যবস্থা: আক্ষরিক অর্থে ‘ইত্তা’ বলতে ‘এক অংশ বােঝায়। ইতিহাসবিদ কে. এ. নিজামি লিখেছেন, “ভারতের সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার জন্য দিল্লির প্রথম দিকের তুকী সুলতানগণ বিশেষ করে ইলতুৎমিস ইত্তাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন। “কিন্তু পরবর্তীকালে বিভিন্ন সুলতানের আমলে ইক্তা ব্যবস্থায় নানা বিবর্তনের মধ্য দিয়ে সুলতানি যুগে সামন্ততান্ত্রিক কাঠামােরই আত্মপ্রকাশ ঘটে।

[2] ইক্তা ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য: ইক্তা ব্যবস্থায় সামৰ ন্ত্রিক ধাঁচের কিছু বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। এগুলি হল— [i] এই ব্যবস্থার দ্বারা সুলতান তাঁর ‘খালিসা’ জমির বাইরে অবস্থিত জমিগুলি নির্দিষ্ট শর্ত ও কর্তব্য পালনের বিনিময়ে তার সেনাধ্যক্ষ, সৈনিক ও অভিজাতদের মধ্যে বণ্টন করে দিতেন। [ii] বিনিময়ে ইক্তাদার বা ‘মাকৃতি নামে ইক্তাতার প্রাপকরা সুলতানকে প্রয়ােজনে সৈন্য সরবরাহ করতেন। [iii] সুলতানের হয়ে মাকৃতি তার ইক্তা এলাকায় স্থানীয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও কিছু প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতেন।

[3] ইক্তা প্রথার বিবর্তন: ইলতুৎমিসের পরবর্তীকালে কোনাে কোনাে সুলতানের পদক্ষেপে ইক্তা ব্যবস্থায় সামন্ততান্ত্রিক কাঠামােটি আরও জোরদার হয়ে ওঠে। [i] বলবন ইক্তার হিসাব রক্ষা ও কেন্দ্রের প্রাপ্য অর্থ কঠোরভাবে আদায় করার নীতি নেন। [ii] আলাউদ্দিন খলজি ইত্তা ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করলেও গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের আমলে নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়ে পড়ে। [iii] বিন তুঘলক সর্বোচ্চ পরিমাণ রাজস্ব প্রদানে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে ইক্তার রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দেন। [iv] এরপর ফিরােজ তুঘলক ইক্তা ব্যবস্থায় সরকারি নিয়ন্ত্রণ হ্রাস করে এই প্রথাকে বংশানুক্রমিক করে দেন। এভাবে ইত্তা প্রথায় সামন্ততান্ত্রিক প্রবণতা চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে।

[4] সামন্ততান্ত্রিক প্রবণতা: ভারতে সুলতানি যুগে ইউরােপের সামন্ততান্ত্রিক পিরামিড কাঠামাের বিভিন্ন স্তর বিন্যাস লক্ষ করা না গেলেও সুলতানের কাছ থেকে ইস্তার জমি লাভের পর ইত্তাদাররা নিজ নিজ ইক্তা-অঞ্চলে সামন্তপ্রভুদের মতােই স্বাধীনভাবে প্রশাসন পরিচালনা করতেন। এভাবে ইক্তা প্রথার মধ্যে সামন্ততান্ত্রিক প্রবণতা লুকিয়েছিল।

উপসংহার: পরবর্তীকালে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ইক্তাদাররা দিল্লির কেন্দ্রীয় শাসনকে অগ্রাহ্য করতে থাকে। ফলে সুলতানি শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং দেশের বিভিন্ন অংশে এই ইক্তাদাররাই স্বাধীন সামন্তপ্রভুর ভূমিকা গ্রহণ করে শাসন শুরু করেন। ইত্তা ব্যবস্থার কাঠামােটি থেকে পরবর্তী মােগল আমলে সামন্ততান্ত্রিক ধাঁচের জায়গিরদারি ব্যবস্থার সূত্রপাত ঘটে।

ভারতে সামন্ততন্ত্রের অস্তিত্বের সহায়ক উপাদানগুলি সংক্ষেপে উল্লেখ করাে।

প্রাচীন ভারতে সামন্ততন্ত্রের অস্তিত্বের প্রমাণ দিতে গিয়ে ড. ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত, ড. রামশরণ শর্মা, ড. ডি. ডি. কোশাম্বী, ড. দ্বিজেন্দ্রনাথ ঝা, অধ্যাপক বি. এন. এস. যাদব, এস. গােপাল ভকতপ্রসাদ মজুমদার প্রমুখ পণ্ডিতগণ সামন্ততন্ত্রের বিভিন্ন সহায়ক উপাদান বা তথ্যের উল্লেখ করেন। এই উপাদানগুলি হল- [1] ভারতীয় সমাজে দাসপ্রথার অস্তিত্ব। [2] অগ্রহার প্রথার দ্বারা ভূমিদানের ফলে নতুন ভূম্যাধিকারী শ্রেণির উত্থান ঘটা। [3] কৃষিভিত্তিক স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ ঘটা। [4] কৃষকদের জমির সঙ্গে কঠোর বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পড়া। [5] মুদ্রার সংখ্যা কমে গিয়ে মুদ্রা-অর্থনীতি সংকটের সম্মুখীন হয়েছিল। [6] দেশে শিল্প ও বাণিজ্য হ্রাস পেয়েছিল। [7] প্রাচীন নগরগুলিতে অবক্ষয় শুরু হয়েছিল।

গুপ্তযুগে অগ্রহার ব্যবস্থা সামন্ততন্ত্রের বিকাশে কতখানি সহায়তা করেছিল?

সামন্ততন্ত্রের বিকাশে সহায়তা করার জন্য অগ্রহার ব্যবস্থাকে সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার অগ্রদূত’ বলা হয়। এই ব্যবস্থার অন্তর্গত নিম্নলিখিত বিষয়গুলি সামন্ততন্ত্রের বিকাশে সহায়তা করেছিল—

[1] ব্যক্তি মালিকানার প্রসার: ড. রামশরণ শর্মার মতে, গুপ্তযুগে জমির ওপর রাজকীয় ও গােষ্ঠীমালিকানা সংকুচিত হয়ে ব্যক্তিমালিকানার প্রসার ঘটতে থাকে। এর অন্যতম কারণ। ছিল ‘অগ্রহার ব্যবস্থার মাধ্যমে ধর্মস্থানে ও ব্রাহ্মণদের উদ্দেশ্যে ভূমিদান। রাজা ধর্মস্থানে এবং ব্রাহ্মণদের যে ভূমি দান করতেন। তাতে রাজার আর কোনাে অধিকার থাকত না।

[2] ভূমিদান: গুপ্ত রাজা ও ধনী ব্যক্তিরা পুণ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে ধর্মস্থান ও ব্রাহ্মণদের (পরবর্তীকালে যােদ্ধাদের) যে নিষ্কর ভূমি দান করতেন তার যাবতীয় অধিকার দানগ্রহীতার হাতে চলে যেত। দান-গ্রহীতা এই দানপ্রাপ্ত জমির সমগ্র রাজস্ব আদায়, ওই ভূখন্ডে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, বিচারকার্য পরিচালনা করা প্রভৃতির সার্বিক দায়িত্ব পালনের অধিকার চলে যেত দানগ্রহীতার হাতে। দানপ্রাপ্ত ভূমির নীচে অবস্থিত খনিজ সম্পদেও দানপ্রাপকের সম্পূর্ণ অধিকার জন্মাত।

[3] ত্রিস্তর ব্যবস্থা: সমকালীন স্মৃতিশাস্ত্রগুলিতেও উল্লেখ পাওয়া যায় যে, ভূমিদানের ফলে ভূমি ব্যবস্থায় তিনটি স্তরের সৃষ্টি হয়েছিল। এগুলি হল- [i] মহিপতি বা রাজা, [ii] ভূস্বামী বা জমির প্রাপক ও [iii] কৰ্ষক বা শােষিত কৃষকশ্রেণি। অর্থাৎ ভূমিদানের ফলে সামন্ততন্ত্রের উপাদান হিসেবে সর্বোচ্চ শিখরে রাজা, মধ্যবর্তী স্তরে বিভিন্ন ভূস্বামী ও নিম্নস্তরে শােষিত কৃষ শ্রেণি অবস্থান করত। এ থেকে প্রাচীন ভারতে সামন্ততন্ত্রের বিকাশের ধারাটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

উপসংহার: ড. দীনেশচন্দ্র সরকার, ড. রণবীর চক্রবর্তী প্রমুখ অগ্রহার ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতে রাজার ক্ষমতা হ্রাস এবং সামন্ততন্ত্রের বিকাশের যুক্তি খণ্ডন করেছেন। ড. সরকার মনে করেন যে, গুপ্তযুগের ‘অগ্রহার’ ব্যবস্থা রাজার ক্ষমতা হ্রাস বা মুদ্রা- অর্থনীতির অবক্ষয়ের কোনো প্রমাণ দেয় না।

গুপ্তযুগে ভারতীয় উপমহাদেশে সামন্তপ্রথার উত্থানের পটভূমি আলােচনা করাে।

সূচনা: প্রাচীন ভারতে বিশেষত গুপ্তযুগে সামন্ততন্ত্রের উত্থান ঘটেছিল। বিশেষ কিছু ব্যবস্থা বা ঘটনা সামন্ততন্ত্রের উত্থানকে সহজ করেছিল।

[1] কৃষকের বন্ধ জীবন: গুপ্তযুগে, বিশেষ করে আদি মধ্যযুগে ভারতের কৃষকসমাজ ভূমির মালিকানা হারিয়ে প্রভুর জমিতে শ্রমদানে বাধ্য হয়েছিল বলে অনেকে মনে করেন| ড. যাদব দেখিয়েছেন যে, আদি-মধ্যযুগে ‘হালকর’, ‘বদ্ধহল” প্রভৃতি শব্দগুলি কৃষকের প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে। এর থেকে তিনি অনুমান করেন যে, সে যুগে কৃষকরা নিজস্ব অধিকার হারিয়ে প্রভুর জমিতে আবদ্ধ হয়ে পড়েছিল।

[2] বাণিজ্যের অবনতি: সামন্ততন্ত্রের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল কৃষি-অর্থনীতির ওপর বেশি নির্ভরতা এবং বাণিজ্যের অবনতি।ড. রামশরণ শর্মা ও ড. যাদব দেখিয়েছেন যে, গুপ্তযুগে অগ্রহার ব্যবস্থার বিকাশের ফলে স্বনির্ভর গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতিই মুখ্য হয়ে ওঠে। রােমান সাম্রাজ্যের পতনের সঙ্গে সঙ্গে ভারতের সঙ্গে রােমের সক্রিয় বাণিজ্যিক সম্পর্কও শেষ হয়ে যায়। ফলে ভারতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

[3] নগরের অবক্ষয়: অগ্রহার প্রথাকে ভিত্তি করে গুপ্তযুগে উদ্ভূত নতুন ভূস্বামীরা কৃষি উৎপাদনে শ্রমের ওপর জোর দিলে শিল্প ও বাণিজ্য অবহেলিত হয়। ফলে নগরগুলির অবক্ষয় শুরু হয়। এসময় প্রাচীন নগরজীবনের অবক্ষয় এবং গ্রামজীবনের প্রসার সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

[4] সম্রাট ও কৃষকের মধ্যবর্তী শাসকগোষ্ঠী: ড. কোশাস্বীর মতে, খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতকের মধ্যে ভারতে সম্রাট তার অধীনস্থ বিভিন্ন স্থানীয় শাসকদের নিজেদের এলাকায় রাজস্ব আদায়, শাসন পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা প্রভৃতি বিষয়ে কিছু কিছু অধিকার দেন। উধ্ধ্বতন সম্রাট কর্তৃক স্থানীয় শাসকদের এরূপ অধিকারদানকে ড. কোশাম্বী ওপর থেকে সামন্ততন্ত্র” (Feudalism from Above) বলে অভিহিত করেছেন। ড. কোশাম্বীর মতে, খ্রিস্টীয় সপ্তম-অষ্টম শতক নাগাদ সম্রাট ও কৃষকের মধ্যবর্তী স্তরে নতুন ভূম্যধিকারী গােষ্ঠীর উত্থান ঘটে যারা কৃষকদের ওপর বলপ্রয়ােগ করে কৃষি উৎপাদনকে সচল রাখত। ড. কোশাম্বী একে ‘নীচু থেকে সামন্ততন্ত্র’ (Feudalism from Below) বলে অভিহিত করেছেন।