মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন – কোনি

বাংলা সহায়ক গ্রন্থ:কোনি

প্রঃ ফাইট কোনি ফাইট’—গল্পে বারংবার এই কথাটি ব্যবহার করা হয়েছে কেন লেখাে।

অথবা, ফাইট কোনি ফাইট’—সাধারণ মেয়ে থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠতে গিয়ে কোনিকে কী ধরনের ফাইট করতে হয়েছিল, নিজের ভাষায় লেখাে।

অথবা,কোনির লড়াইয়ের মানসিকতার পরিচয় দাও।

উত্তর ➙ মােতি নন্দীর কোনি জন্মসূত্রেই ছিল এক জাত ফাইটার। শ্যামপুকুর বস্তির এই মেয়েটি জীবনের শুরু থেকেই টিকে থাকার লড়াইয়ে অভ্যস্ত। জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে কোনির লড়াই শুরু। পিতার মৃত্যুর পর দাদা হাল ধরলেও সংসারের নৌকায় গতি আসেনি। তাই উপন্যাসের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে কোনির প্রথম আবির্ভাবেই তাকে যেভাবে নিজের দাবি ছিনিয়ে নিতে দেখা যায়, তখনই বােঝা যায় তার মধ্যে রয়েছে এক সুপ্ত ফাইটার। এরপর অবিরাম হাঁটা প্রতিযােগিতায় শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার জন্য দাঁতে দাঁত চেপে কোনি লড়াই করে। রবীন্দ্র সরােবরে অনুষ্ঠিত সাঁতার প্রতিযােগিতায় সে হিয়া মিত্রের কাছে হেরে যায়। যথার্থ টেকনিক না জানার কারণে। কিন্তু যথার্থ ফাইটারের মতােই সে এই পরাজয় মেনে নিতে পারেনি।

ক্ষিতীশ কোনিকে সাঁতার শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমে জুপিটার ক্লাবে ভর্তির পরীক্ষা দিয়ে সফলভাবে উত্তীর্ণ হলেও শুধু স্থানাভাবের কারণ দেখিয়ে তাকে ভরতি নেওয়া হয় না। ক্ষিতীশের সঙ্গে কোনির ভাগ্য জড়িয়ে পড়ার কারণে একের পর এক প্রতিবন্ধকতা তাদের পথ রােধ করে দাঁড়ায়। জুপিটার সুইমিং ক্লাবের প্রতিযােগিতায় কোনির এনট্রি গৃহীত না হলেও ক্ষিতীশের চেষ্টায় সে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় তার প্রতিভা ও অবস্থান। স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে সে চক্রান্তের শিকার হয়ে দুবার ডিসকোয়ালিফাই ও একবার প্রথম হয়েও দ্বিতীয় বলে ঘােষিত হয়। ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন- শিপে মাদ্রাজে গিয়েও তাকে অকারণে বসিয়ে দেওয়া হয়। অন্য সাঁতারুদের কাছে তার কপালে জোটে চোর অপবাদ। কিন্তু অদৃষ্টে কোনির জন্য অপেক্ষায় আরাে ভালাে আছে। তাই অমিয়ার পরিবর্তে সে জলে নেমে নিজেকে প্রমাণ করে সােনা জিতেছে। গঙ্গার এক সাধারণ সাঁতারু থেকে জাতীয় স্তরে পেয়েছে সে চরম সাফল্য। এই অনবদ্য জীবনযােদ্ধাই হল কোনি।
প্রঃ বারুণী কী? বারুণির দিনে গঙ্গার ঘাটে কোন দৃশ্য দেখা গিয়েছিল?

অথবা,“আজ বারুণী গঙ্গায় আজ কাঁচা আমের ছড়াছড়ি।”—বারুণী কি? গঙ্গায় কাঁচা আমের ছড়াছড়ি কেন? বারুণীর গঙ্গা তীরের বর্ণনা দাও।

উত্তর ➙ বারুণী : বাংলা কথা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক মতি নন্দীর কোনি উপন্যাসের প্রথম পরিচ্ছেদ থেকে আলােচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে। বারুণী হল শতভিষা নক্ষত্রযুক্ত কৃয়া চতুর্দশী তিথিতে পুণ্য স্নান দ্বারা পালনীর পর্ব বিশেষ। বর্তমানে এটি লৌকিক উৎসবের মর্যাদা পেয়েছে।

কাঁচা আমের ছড়াছড়ির কারণ : বারুণী উপলক্ষ্যে পুণ্য সঞ্জয়ের আশায় অনেকে গঙ্গা স্নান করতে আসে। গঙ্গা স্নানের সময় মানুষজন গঙ্গার ঘাটে আম দিয়ে স্নান করার ফলে সেখানে কাঁচা আমের ছড়াছড়ি হয়।

গঙ্গা তীরের বর্ণনা : বারুণী তিথিতে জল থেকে আম তুলে বাজারে কম দামে বিক্রির লােভে ছােটো ছােটো দলে ছেলেমেয়েরা ঘাটে ভিড় করে আছে। ছেলের দল কেউ গঙ্গার জলে দাঁড়িয়ে, কেউ বা জলে ভেসে রয়েছে একটু দূরে। একটা আম জলে পড়লেই তাদের মধ্যে হুড়ােহুড়ি, কাড়াকাড়ি পড়ে যায়। আম পেলে পকেটে ঢুকিয়ে রাখে আর পকেট ভরে এলে ঘাটের কোথাও রেখে আসে। পুণ্য সঞ্চয়কারী মানুষরা স্নান করে। কাদা মেখে ঘাটে উঠে এসে কেউ কেউ যায় ঘাটের মাথায় বসে থাকা বামুনদের দিকে। যারা পয়সা নিয়ে জামাকাপড় রাখে। গায়ে মাখার জন্য নারকেল তেল বা সরষের তেল নেয়। কপালে আঁকে চন্দনের ফোঁটা কেউ কেউ আবার পথের ভিখারিদের উপেক্ষা করে চলে যায়। কেউ আবার করে না। পথের দু’ধারে নানান জিনিসের দোকান বসে। কেউ কেউ আবার বাজার থেকে ওল বা থাের বা কমলালেবু কিনে আনে। রােদে তেতে ওঠা রাস্তায় তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে বিরক্তির মেজাজে বাড়ি ফিরতে থাকে।
প্রঃবিষ্ণুচরণ ধরের পরিচয় দাও। তার খাদ্যাভ্যাসের বিবরণ দাও।

উত্তর ➙ বিষ্ণুচরণ ধর : কোনি উপন্যাসে মতি নন্দী দেখিয়েছেন বিভিন্ন চরিত্রের অনন্য সমাবেশ। সেইরকমই একটি চরিত্র বিষ্ঠু ধর। সে পাড়ার একজন বেশ গণ্যমান্য ব্যক্তি। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি সভাপতির পদ অলঙ্কৃত করেন। আসন্ন নির্বাচনে তার ভােটে দাঁড়ানাের ইচ্ছা রয়েছে। পাড়াতে তিনি বেষ্টাদা নামে পরিচিত। অত্যন্ত বনেদি বংশের সন্তান বিষ্ণুচরণ। আই.এ. পাশ। তার সাতটি বাড়ি রয়েছে,বড়াে বাজারে ঝাড়ন মশলার কারবার রয়েছে। বছর ৪০ বয়সে তার দেহের আয়তন সাড়ে তিন মন। তার একটি অস্টিন গাড়ি আছে। যেটাতে করে তিনি যাতায়াত করেন। বিষ্ণুচরণের শখ হল মালিশ ওয়ালাকে দিয়ে মালিশ করানাে। তাই গঙ্গার ঘাটে বিষ্ণুচরণ যায় মালিশ করাতে।

খাদ্যাভ্যাসের বিবরণ : বিষ্ণুচরণের ওজন তিন মন হওয়াতে তিনি খাওয়ার লােভে সংবরণ করেছেন এবং ডায়েটিং শুরু করেছেন। আগে তার জলখাবারে ২০টি লুচি লাগত, সেই সঙ্গে ৫০০ গ্রাম ক্ষীর খেতেন। কিন্তু এখন ৩০০ গ্রাম ক্ষীর এবং জলখাবারে ১৫টা লুচি খান। দুপুরে ভাত খান আড়াইশাে গ্রাম চালের। আর গরম ভাতের সাথে চার চামচ ঘি, বিকেলে দু’গ্লাস মিছরির শরবত আর চারটি কড়াপাকের সন্দেশ খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। রাত্রে বিষ্ণুচরণ খান ১২টি রুটি। যদিও তিনি
প্রঃ “চার লক্ষ টাকা খরচ করেও আপনি নিজের শরীরটাকে চাকর বানাতে পারবেন না”—কে কাকে উদ্দেশ্য করে উক্তিটি করেছেন বক্তা কেন এরূপ মন্তব্যটি করেছেন?

অথবা,” আপনার মন হুকুম করতে জানে না তাই শরীর পারল না ” – প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তাৎপর্য লেখাে।

উত্তর ➙ বক্তা-শ্রোতা : মতি নন্দী রচিত কোনি উপন্যাসে ক্ষিতীশ সিংহ বিষ্ণুচরণ ধরকে উদ্দেশ্য করে উক্ত উক্তিটি করেছেন।

তাৎপর্য : ক্ষিতীশ সিংহের সঙ্গে গঙ্গার ঘাটে সাক্ষাৎ হয় তিন মন ওজনের দেহের মালিক বিষ্ণুচরণ ধরের। তার বিপুল দেহ ও মালিশের বিচিত্র ভঙ্গি দেখে ক্ষিতীশবাবু তাকে তার জীবনের আসন্ন বিপদ সম্পর্কে সচেতন করে দেন। তিনি বলেন ওজনটা বিপজ্জনক, হার্টের ক্ষতি হতে পারে। বিষ্ট ধর একথা শুনে ভয় পেয়ে নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আতঙ্কিত হয়ে পড়লে ক্ষিতীশ সিংহ তাকে বলেন,—তিনি অনেক বড়ােলােক, কিন্তু ৪ লক্ষ টাকা খরচ করেও নিজের শরীরটাকে নিজের অনুগত দাসে পরিণত করতে পারবে না। কারণ ভালাে ভালাে খাবার খেয়ে শুধুমাত্র শরীরের আয়তন বেড়েছে কিন্তু মনের বল একটুও বাড়েনি। ক্ষিতীশ তার ডান কনুই শরীরের সঙ্গে লাগিয়ে পিস্তল ধরার ভঙ্গিতে হাতটা সামনে বাড়িয়ে বিষ্টু ধরকে তা নামাতে বলেন। বিষ্ণু ধর কয়েক বার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। তখন ক্ষিতীশবাবু তাকে বলেন, জোরে বলতে শুধু গায়ের জোর বােঝায় না। মনের জোরে সব হয়। আর এই মনের জোর আসে প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তি থেকে। শরীর যতটা পারে, তার থেকে বেশি যদি শরীরকে দিয়ে করানাে যায় তবে ইচ্ছার জোর বাড়তে থাকবে। বিষ্ণু ধর যেহেতু শরীরকে দিয়ে হুকুম মানাতে ব্যর্থ তাই তিনি রােগা শরীরে ক্ষিতীশের হাত নামাতে ব্যর্থ হন।

প্রঃ ‘চার বছরের মধ্যেই প্রজাপতি ডানা মেলে দিয়েছে। প্রজাপতি কী? প্রজাপতির পূর্ব ও বর্তমান অবস্থার পরিচয় দাও।

অথবা, ক্ষিতীশবাবুর দোকানের বর্ণনা দাও।

উত্তর ➙ প্রজাপতি : বাংলা কথা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক মতি নন্দীর কোনি উপন্যাস থেকে আলােচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে। প্রজাপতি হল ক্ষিতীশ সিংহের একটি কাপড়ের টেলারিং এর দোকান।

প্রজাপতির পূর্ব অবস্থা : প্রজাপতির পূর্বের নাম ছিল সিনহা টেলারিং আগে ক্ষিতীশ সিংহের আমলে প্রজাপতি ঠিকমতাে ডানা মেলতে পারেনি। অর্থাৎ দোকান থেকে লাভ হত না। বরং সবসময় লােকসান হত। পূর্বে দুটি দর্জিতে জামা প্যান্ট তৈরি করত আর দেয়াল আলমারিতে ছিল কিছু সিন্থেটিক কাপড়। ক্ষিতীশবাবু ঘণ্টা দুয়েকও সময় দিতে পারতেন না দোকানে। ফলে দেখা গেল আলমারির কাপড় অর্ধেকের বেশি অদৃশ্য হয়েছে। দোকানের ভাড়া বাকি পড়েছে চার মাস। আর দোকানে লাভের বদলে লােকসান শুরু হয়েছে।

প্রজাপতির অবস্থার পরিবর্তন : এইরকম অবস্থার দোকানের দায়িত্ব হাতে নিলেন লীলাবতী। টেলারিং-এর ডিপ্লোমাধারী দুই মহিলাকে নিয়ে নিজের গহনা বন্ধক দিয়ে ঢেলে দোকান সাজান লীলাবতী। নতুন নাম দেন প্রজাপতি। পুরুষদের পােশাক তৈরি বন্ধ করে দিয়ে শুধুমাত্র মেয়েদের ও বাচ্চাদের পােশাক তৈরি শুরু করেন। কোনাে পুরুষ কর্মচারী নেই। চার বছরের মধ্যে দোকান লাভের মুখ দেখেছেন। লীলাবতী অর্ধেকের বেশি গহনা ছাড়িয়ে এনেছেন। আগে তিনদিনের মধ্যে জিনিস তৈরি করে দেওয়া হত। এখন দশ দিনের আগে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।দোকানের জায়গা কম বলে হাতিবাগানে নতুন ঘর দেখেছেন লীলাবতী দেবী।
প্রঃ আমার বিরুদ্ধে চার্জগুলাে স্পষ্ট করে চিঠিতে বলা নেই, বক্তা কে? তার বিরুদ্ধে কী অভিযােগ উঠেছিল।

উত্তর ➙বক্তা : মতি নন্দী কোনি উপন্যাসে আলােচ্য অংশের বক্তা হলেন ক্ষিতীশ সিংহ।

ক্ষিতীশের বিরুদ্ধে অভিযােগ : হরিচরণবাবুরা সমবেতভাবে জানিয়েছিলেন জুপিটারের সদস্যরা কেউ ক্ষিতীশ সিংহকে চায় না। কারণ, তারা ক্ষিতীশ সিংহের ব্যবহারে অত্যন্ত বিরক্ত হয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে মূল অভিযােগ ছিল ছেলেমেয়েদের মন মেজাজ বােঝার ক্ষমতা তার নেই।সদস্যরা মূলত যে অভিযােগগুলি এনেছিল তা হল—–

(i) জুনিয়ার ছেলেদের সামনেই শ্যামলকে তার টাইম আর আমেরিকার ১২ বছরের মেয়েদের টাইমের তুলনা করে অপমান করেছেন।

(i) রেকর্ডধারী গােবিন্দকে বলেছে কান ধরে জুপিটার থেকে বের করে দেবে।

(ii) সুহাস শরীর অসুস্থ থাকার কারণে ১০ দিন আসতে পারেনি। তার বাড়িতে গিয়ে ক্ষিতীশ সুহাসেরা বাবাকে যা তা কথা বলেছে।

(iv) অমিয়া আর বেলা জুপিটার ছেড়ে অ্যাপােলােয় গিয়েছে শুধু তার জন্য। ওদের চুল কাটতে নির্দেশ দিয়েছিল। এমনকি পুরুষদের মতাে ওদের বারবেল নিয়ে এক্সারসাইজ করার জন্য ঝগড়া করত।

এই অভিযােগগুলি এনে ক্ষিতীশ সিংহকে চিফ ট্রেনার থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

প্রঃ“ওরা জুপিটারের শত্রু, কতকগুলাে স্বার্থপর লােভী, মূখ আমায় দল পাকিয়ে জড়িয়েছে বলে, শত্রুর ঘরে গিয়ে উঠব”—ওরা বলতে কারা, প্রসঙ্গ উল্লেখ করে উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

উত্তর ➙ওরা : বাংলা কথাসাহিত্যের জনপ্রিয় লেখক মতি নন্দীর কোনি উপন্যাস থেকে আলােচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে। ওরা বলতে অ্যাপােলােকে বােঝানাে হয়েছে।

প্রসঙ্গ : আলােচ্য অংশটির বক্তা হলেন ক্ষিতীশ সিংহ। দীর্ঘদিন ধরে জুপিটারের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল তাই তার পক্ষে অন্য কোথাও যাওয়া অসম্ভব ছিল, তাই এমন মন্তব্য।

তাৎপর্য : ক্ষিতীশবাবু সর্বক্ষণের সঙ্গী ভেলাে। তিনি যখন শুনেছিলেন ক্ষিতীশকে জুপিটার থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে তখন কষ্ট পেয়েছেন। তিনি অনুরােধ করেছিলেন ক্ষিতীশবাবু যেন সমস্ত অভিমান ত্যাগ করে অ্যাপােলােতে যােগ দেন। ক্ষিতীশবাবু অবশ্য তা চায়নি কারণ তার সঙ্গে জুপিটারের সম্পর্ক—তা ছিন্ন করা সম্ভব নয়। লেখক জানিয়েছেন জুপিটারের সঙ্গে তার নাড়ীর সম্পর্ক। যদিও সাঁতারু তৈরি করা ক্ষীতিশবাবুর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। সুতরাং, লেখক জানানলক্ষ্য পূরণ করতে হলে নাড়ীর বন্ধন ছিন্ন করতে হবে। ক্ষীতিশবাবুর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়—(i) ক্ষিতীশ মানুষ হিসেবে অনেকখানি উদার ও মহৎ।(ii) সে সুযােগ সন্ধানী নয়। (iii) তার মধ্যে একজন ট্রেনারের সমস্ত গুণ রয়েছে।

➦প্রঃ কোনি উপন্যাসে কোনি চরিত্রের পরিচয় দাও।

উত্তর ➙ভূমিকা : বাংলা কথা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক মতি নন্দীর কোনি নামাঙ্কিত কিশাের উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কোনি। এই চরিত্রের বিশ্লেষণ করলে কতকগুলি বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়।

(i) কঠোর জীবনসংগ্রাম : কোনি অর্থাৎ কনকর্চাপা পাল অতি দরিদ্র পীড়িত সংসারের মেয়ে। চেহারা ছেলেদের মতাে, মেয়ে মদ্দানি। কোনাে কিছুতেই সে ভয় পেয়ে পিছিয়ে যায় না। সে অবিরাম ২০ ঘণ্টার ভ্রমণ প্রতিযােগিতা হােক বা সাঁতরে আমের অধিকার রক্ষায় হােক বা নামজাদা সাঁতারুদের সঙ্গে সাঁতার প্রতিযােগিতায় হােক, সবেতেই সে এগিয়ে থাকে।

(ii) পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতা : দাদার মৃত্যুর পর পরিবারের খাবারের জোগানের জন্য যখন সে প্রজাপতিতে কাজ করে তখন দেখা যায় ট্রেনিং-এর পর শত কষ্ট হলেও ছুটে যায় প্রজাপতিতে। পরিবারের প্রতি মমত্ববােধ আছে বলে ক্ষিতীশ তার জন্য যে পুষ্টিকর সুষম খাদ্যের ব্রাদ্দ করেছিল, সেই বাবদ পাওয়া টাকা সে বাড়ি নিয়ে যেতে চায়। যাতে তা দিয়ে পরিবারের প্রত্যেকের খাবারের চালটুকু সে কিনতে পারে।

(iii) প্রখর আত্মসম্মান বােধ : কোনির আত্মসম্মান বােধ প্রখর। চিড়িয়াখানায় বেড়াতে গিয়ে বড়াে স্কুলের দিদিমণির কাছে জল চেয়ে না পেলে সে প্রতিহিংসায় জ্বলে ওঠে। সেই জল যখন ইস্কুলের ছাত্রী হিয়া মিত্র দিতে আসে, তখন সে প্রবল আঘাতে ফিরিয়ে দেয়।

(iv) কঠোর পরিশ্রমী : কোনির সৎ সাহস, কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা, জমে থাকা দুঃখ অভিমান শেষ পর্যন্ত তার গলায় জয়মাল্য পরিয়ে দিয়েছে।

(v) মূল্যায়ন : কোনি উপন্যাসে কোনি প্রধান চরিত্র। সৎ পথে যে সাফল্য আসবে তা কোনি জীবন দিয়ে প্রমাণ করে। মতি নন্দীর কোনি কিশাের উপন্যাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চরিত্র।
➦প্রঃ ” হঠাৎ কোনির দুচোখে জলে ভরে এল’—কোনির দুচোখে জলে ভরে ওঠার কারণ কী, এরপর কী ঘটেছিল?

উত্তর ➙ দুচোখ জলে ভরে ওঠার কারণ : মতি নন্দীর কোনি উপন্যাস থেকে আলােচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে। রবীন্দ্র সরােবরে অনুষ্ঠিত এক মাইল সাঁতার প্রতিযােগিতায় যে ২৫ জন প্রতিযােগী অংশগ্রহণ করেছিল তার মধ্যে একদিকে যেমন ছিল বালিগঞ্জের হিয়া মিত্র, অন্যদিকে তেমনই ছিল শ্যামপুকুর বস্তির কোনি। সাধারণ সাঁতারু কোনি নিজেকে উজাড় করেও টেকনিক জানা হিয়া মিত্রের সঙ্গে পেরে ওঠেনি। কিন্তু দাদা কমলকে কথা দিয়েছিল মেয়েদের মধ্যে প্রথম হবে। সেই জন্য দাদা ধার করে ১২ টাকা দিয়ে কোনিকে সাঁতারের পােশাক কিনে দিয়েছিল।কোনি নিজের এই পরাজয় ও দাদাকে দেওয়া কথা না রাখতে পারার বেদনা মেনে নিতে পারেনি সেই সময় ক্ষিতীশের কণ্ঠস্বর ও সাঁতার শেখানাের প্রস্তাব তাকে দুর্বল করে দিয়েছিল। সেই মুহূর্তে দুঃখ অভিমানে কোনির চোখে জল দেখা দিয়েছিল।

পরবর্তী ঘটনা : এরপর যে ঘটনা ঘটেছিল, তা কোনির জীবনের সব থেকে দিশা পরিবর্তনকারী ঘটনা। সাধাসিদে পরিবারের কোনি খুব ভালাে সাঁতার জানলেও সে কোনােদিন কোনাে প্রশিক্ষকের কাছে সাঁতার শেখার কথা ভাবেনি। সম্ভবত সাঁতার প্রশিক্ষণ বিষয়ে তেমন কিছু জানাও তার ছিল না। কিন্তু তার জীবনের এই পর্বে ক্ষিতীশের মতাে একজন প্রশিক্ষককে পেয়ে সে ধীরে ধীরে সাফল্যের শীর্ষে পোঁছায়।তখন একজন প্রকৃত শিক্ষক সত্ত্বা ক্ষিতীশবাবু কোনির সাঁতার অনুশীলনের জন্য এসে দাঁড়ায় জুপিটারের প্রতিপক্ষ অ্যাপােলাের গেটে। অ্যাপােলাের গেটে এসে ক্ষিতীশবাবুর নতুন করে জ্ঞানচক্ষুর জাগরণ ঘটল। একদিকে জুপিটার অন্যদিকে তার আদর্শ। শেষ পর্যন্ত শুধুমাত্র কোনিকে সাঁতার শেখানাের জন্য অ্যাপােলােতে যােগ দেয়। তিনি এই শর্তে অ্যাপােলােতে আসেন। কোনি হবেন অ্যাপােলাের কিন্তু ক্ষিতীশবাবু চিরকাল থাকবেন জুপিটারের।

প্রঃ আমার ভবিষ্যত’—কে, কার কোন প্রশ্নের উত্তরে কথা বলেছিলেন, তাকে কেন নিজের ভবিষ্যৎ বলেছিলেন?

উত্তর ➙ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক মতি নন্দী রচিত কোনি উপন্যাসে ক্ষিতীশবাবু কোনিকে দেখিয়ে বিষ্ণুচরণ ধরকে বলেছিলেন।

ক্ষিতীশের ভবিষ্যৎ : বক্তা ক্ষিতীশবাবু যে বক্তব্যটি এখানে প্রকাশ করেছেন। তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সুদীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে ক্ষিতীশবাবু সাঁতারু তৈরির কারিগর।কিন্তু হরিচরণের প্রশিক্ষক হওয়ার ইচ্ছায় মিথ্যা অভিযােগ দিয়ে ক্ষিতীশবাবুকে জুপিটার থেকে ছাড়িয়ে দেয়। তার বিরুদ্ধে অভিযােগ ছিল প্রশিক্ষক হওয়ার যােগ্যতা নেই ক্ষিতীশবাবুর। ভাগ্যের পরিহাসে এই সময় ক্ষিতীশবাবুর চোখে আসে কোনি। তাকে বেঙ্গল চ্যাম্পিয়ন করার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চান ক্ষিতীশবাবু। তাই ক্ষিতীশবাবু কোনিকে চিহ্নিত করে বলেছেন ‘আমার ভবিষ্যৎ’। বস্তুত ক্ষিতীশ কোনিকে তৈরি করেছিলেন এমনভাবে কোনির জয়ের অর্থ ক্ষিতীশবাবুর জয়। অপ্রত্যাশিতভাবে ক্ষিতীশবাবুকে জুপিটারের কর্তারা বের করে দিলে দিশাহারা ক্ষিতীশবাবু কোনিকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলেন। আলােচ্যরউক্তিটি সেই স্বপ্নপূরণের আকাঙ্খা থেকে উচ্চারিত।
প্রঃ“কমলের স্বর অদ্ভুত করুণ একটা আবেদনের মতাে শােনাল”—কমল কে? তার স্বর করুণ কেন?

উত্তর ➙ কমল : বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক মতি নন্দী রচিত কোনি উপন্যাস থেকে আলােচ্য অংশটি গৃহীত হয়েছে। দারিদ্র পীড়িত কোনিদের সুবিশাল সংসারে বড়াে ছেলে কোনির বড়দা কমল। যার নিজের স্বপ্ন ছিল সাঁতারু হওয়ার,অ্যাপােলােতে সাঁতার কাটত। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর তার কঠোর বাস্তব উপস্থিত হয়, সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।

কমলের করুণ স্বর : ছােটো বােন কোনির খেলাধুলার প্রতি প্রবল আগ্রহ দেখে ক্ষিতীশ কোনির দায়িত্ব নেয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর আবার নতুন করে কোনির মধ্য দিয়ে স্বপ্ন পূরণের আশা জাগে মলের। কিন্তু আবার বিধি বাম। শরীর অসুস্থ হওয়াতে, কমল কাজ করতে পারে না। তাই সংসারে খাবার জোগানের জন্য কোনিকে সুতাের কারখানায় ৬০ টাকা বেতনে কাজে লাগানাের কথা ভাবতে হয়।তাই অসুস্থ কমলের সাথে ক্ষিতীশ দেখা করতে এলে, স্বপ্ন আর বাস্তবের টানাপােড়েন কমলের স্বর করুণ আর্তনাদের মতাে শােনায়।