বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষাচিন্তার পরিচয়

প্রশ্ন:- বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষাচিন্তার পরিচয় দাও। অথবা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতন ভাবনার পরিচয় |

ভূমিকা :- রবীন্দ্রনাথ মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছিলেন যে, প্রকৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে মানুষের জীবন ও অস্তিত্ব ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।তাই তাঁর শিক্ষাভাবনায় প্রকৃতি ও পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়েছিল। বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তাঁর শিক্ষা ভাবনার এই বৈশিষ্ট্যটি বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল।

বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা :

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বীরভূম জেলার বোলপুর শহরের কাছে শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা (১৯২১ খ্রিস্টাব্দ) করেন। এখানে কলাবিদ্যা, অর্থশাস্ত্র, কৃষিতত্ত্ব, স্বাস্থ্যবিদ্যা, পল্লি উন্নয়ন সহ বিভিন্ন ব্যবহারিক শিক্ষার পাঠদান শুরু হয়।

বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য :

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মহৎ উদ্দেশ্য সামনে রেখে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠায় ব্রতী হয়েছিলেন। তিনি শান্তিনিকেতনে বিশ্বধর্ম ও বিশ্ব সংস্কৃতির মেলবন্ধন তৈরি করতে চেয়েছিলেন।

বিশ্ববিদ্যার সাধনা:

রবীন্দ্রনাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্ববিদ্যা সাধনার ক্ষেত্র হিসেবে দেখেছেন। তাঁর মতে বিশ্ব- বিদ্যালয় একটি বিশেষ সাধনার ক্ষেত্র । সাধারণভাবে বলা চলে সে সাধনা বিদ্যার সাধনা।” তিনি বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ্য উদ্দেশ্য হল বিদ্যা উদ্ভাবন, গৌণ উদ্দেশ্য হল বিদ্যা দান। রবীন্দ্রনাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বার সকলেরজন্য উন্মুক্ত করার পক্ষপাতী ছিলেন।দেশবিদেশের সকল পণ্ডিতও শিক্ষার্থীরা যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ববিদ্যা সাধনার সুযোগ পায়তা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেনতিনি।

পাঠক্রমের বৈচিত্র্য:

রবীন্দ্রনাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রমে বৈচিত্র্য আনার পক্ষপাতী ছিলেন। এজন্য বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দি ভবন, চিনা ভবন, কৃষি অর্থনৈতিক গবেষণাকেন্দ্র, পল্লি শিক্ষাভবন প্রভৃতির প্রতিষ্ঠা হয়। রবীন্দ্রনাথের আমন্ত্রণে দেশবিদেশের বহু খ্যাতনামা পণ্ডিত এখানে শিক্ষকতা করতে আসেন।

মানবসত্তার বিকাশ :

রবীন্দ্রনাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার ক্ষেত্রে মানুষের মানবসত্তার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটিয়ে তাকে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণকামী সদস্য হিসেবে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “মানুষের অভ্যন্তরের মানুষটিকে পরিচর্যা করে খাঁটি মানুষ বানানোর প্রচেষ্টাই শিক্ষা।”

কেন্দ্রীয় মর্যাদা :

ভারতের স্বাধীনতা লাভের পরবর্তী সময়ে ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ভারতের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা লাভ করে।

উপসংহার :-

রবীন্দ্রনাথ নিজে এমন এক বিশ্ববিদ্যালয় ভাবনা পোষণ করতেন যেখানে মুক্তচিন্তা, সত্যানুসন্ধান, স্বাধীনতা প্রভৃতির দ্বারা মানুষ রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে সচেতন হয়ে উঠবে। তাঁর এই ভাবনা বাস্তবায়িত হয়ে উঠেছিল তাঁর বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে।

Welcome Visitor

Rlearn Education
error: Content is protected !!