ব্রিটিশ-বিরোধী বিপ্লবী আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা

British Birodhi Andolone Narider Bhumika|ব্রিটিশ-বিরোধী বিপ্লবী আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা|Madhyamik History| মাধ্যমিক ইতিহাস


ভূমিকা : বিংশ শতকে ব্রিটিশ-বিরোধী বিপ্লবী আন্দোলনে বিভিন্ন নারীও যুক্ত হয়ে পড়েন। দীপালি সংঘের বিভিন্ন সদস্যা, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, কল্পনা দত্ত, সুহাসিনী গাঙ্গুলী, শান্তি ঘোষ, সুনীতি চৌধুরী, বীণা দাস প্রমুখ বঙ্গনারী সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন।

[1] দীপালি সংঘ: বাংলার নারীদের ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনে শামিল করার উদ্দেশ্যে বিপ্লবী লীলা নাগ (রায়) ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় ‘দীপালি সংঘ’ প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংঘের সদস্যাদের লাঠি খেলা, শরীরচর্চা, অস্ত্রচালনা প্রভৃতি শিক্ষা দেওয়া হত।

[2] চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন: সূর্য সেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের (১৯৩০ খ্রি.) ঘটনায় বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এর পর তিনি টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন অফিস ধ্বংসের কাজে অংশ নেন এবং জালালাবাদের পাহাড়ের যুদ্ধে (১৯৩০ খ্রি.) প্রবল বিক্রমে লড়াই করে পালাতে সক্ষম হন।


[3] ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণ: প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের নেতৃত্বে শান্তি চক্রবর্তী, কালীকিঙ্কর দে প্রমুখ বিপ্লবী ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রামের পাহাড়তলির ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণ করে। এই লড়াইয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ার আগে প্রীতিলতা বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন।

[4] কল্পনা দত্তের বিভিন্ন কার্যকলাপ: সূর্য সেনের বিপ্লবী সংগঠন ‘ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি’-র সদস্য বিপ্লবী কল্পনা দত্ত জেলের অন্যান্য বিপ্লবীদের পালানোর সুযোগ করে দিতে কলকাতা থেকে বিস্ফোরক নিয়ে আসেন। পরে প্রীতিলতার সঙ্গে ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণের দায়িত্ব পান। কিন্তু আক্রমণের আগেই তিনি ধরা পড়ে যান।

[5] জ্যাকসনকে গুলি: বিপ্লবী বীণা দাস ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে সাইমন কমিশন বয়কট আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে (১৯৩২ খ্রি.) গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসনকে লক্ষ করে বীণা গুলি চালালে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁর ৬ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়।

[6] ঝাঁসি বাহিনীর বীরত্ব: চিকিৎসক ড. লক্ষ্মী সায়গল নিজের উজ্জ্বল কর্মজীবন ছেড়ে সুভাষচন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজের নারীবাহিনীর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে আজাদ হিন্দ বাহিনী ভারতের ব্রিটিশ শক্তিকে আক্রমণ করে পরাজিত হলে লক্ষ্মী ব্রিটিশ সেনার হাতে গ্রেফতার হন।

উপসংহার: ভারতের ব্রিটিশ-বিরোধী সংগ্রামে নারীদের অংশগ্রহণে কিছু সীমাবদ্ধতা লক্ষ করা যায় |
যেমন—[1] মূলত বাংলার নারীরাই বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে অনেক বেশি সংখ্যায় অংশ নিয়েছিল। এই কাজে ভারতের অন্যত্র নারীদের অংশগ্রহণ তেমনভাবে লক্ষ করা যায় না।
[2] মূলত উচ্চস্তরের শিক্ষিত নারীরা এই কাজে আকৃষ্ট হয়েছিলেন। সমাজের নিম্নস্তরের নারীদের মধ্যে এর বিশেষ কোনো প্রভাব পড়েনি।

Welcome Visitor

Rlearn Education
error: Content is protected !!