গ্রামবাৰ্ত্তা প্রকাশিকা পত্রিকা : মাধ্যমিক ইতিহাস

Madhyamik History Model Questions| মাধ্যমিক ইতিহাস মডেল প্রশ্ন | মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশান | Class Ten History Model Questions Answers

প্রশ্ন:- গ্রামবাৰ্ত্তা প্রকাশিকা পত্রিকা থেকে উনিশ শতকের বাংলার কী ধরনের সমাজচিত্র পাওয়া যায় ?

উত্তর : ভূমিকা :- উনিশ শতকে কাঙাল হরিনাথ মজুমদার সম্পাদিত গ্রামবাৰ্ত্তা প্রকাশিকা ছিল বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা। এই পত্রিকায় তৎকালীন বাংলার সমাজজীবনের যথেষ্ট প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়। যেমন—

গ্রাম বাংলার মানুষের কথা : ভারতবর্ষ -এর ইতিহাসে এই পত্রিকায় ছিল প্রথম যেখানে গ্রাম ও গ্রামবাসী প্রজাদের অবস্থা নিয়মিত প্রকাশিত হত। গ্রামবাৰ্ত্তা প্রকাশিকা শুধু গ্রাম থেকেই প্রকাশিত হয়। কাঙাল হরিনাথ ছিলেন বাংলার গ্রামীণ সংবাদপত্রের জনক।

সরকারের শোষণ :ব্রিটিশ সরকারের শোষণ ও অত্যাচারে বাংলার দরিদ্র প্রজাদের জীবন কীরূপ দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল তা কাঙাল হরিনাথ তাঁর গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা পত্রিকায় তুলে ধরেছেন।

জমিদারদের শোষণ :ব্রিটিশ সরকারের সহযোগী বাংলার জমিদার, জোতদার, মহাজন প্রমুখের শোষণ ও অত্যাচার সাধারণ বাঙালি সমাজে কীরূপ দুর্দশার সৃষ্টি করেছিল তাও এই পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। পত্রিকায় তুলে ধরা হয়, পুলিশের কাছে বিচার চেয়েও কোনো প্রতিকার মিলত না, বরং অভিযোগকারীরাই পুলিশের নির্যাতনের শিকার হত।

বিদ্রোহ ও দুর্ভিক্ষের সংবাদ :১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জে প্রজাবিদ্রোহ শুরু হলে গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা প্রজাদের পক্ষ নেয়। ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে দুর্ভিক্ষ শুরু হলে কাঙাল হরিনাথ তাঁর পত্রিকার মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের পক্ষে সোচ্চার হন।

নীলকরদের অত্যাচার: কাঙাল হরিনাথ কিছুদিন নীলকুঠিতে কাজ করার সময় কৃষকদের ওপর নীলকর সাহেবদের শোষণ ও অত্যাচারের বিষয়টি স্বচক্ষে দেখেন। নীলচাষিদের ওপর এই শোষণ ও অত্যাচারের বিবরণ তিনি নিয়মিত তাঁর পত্রিকায় প্রকাশ করতে থাকেন।

বিভিন্ন বিষয়বস্তু তুলে ধরা :এই পত্রিকায় গ্রাম বাংলার মানুষদের অবস্থা তুলে ধরার পাশাপাশি সাহিত্য, দর্শন, বিজ্ঞান ও বীরগাথা নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছিল।

উপসংহার :- গ্রামবাংলার প্রতিচ্ছবি তুলে ধরার ক্ষেত্রে গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা সংবাদপত্রটি ছিল উপযুক্ত একটি মাধ্যম। এই পত্রিকায় বাংলার সাধারণ মানুষের সামগ্রিক শোষণ-অত্যাচারের ছবি নিয়মিত তুলে ধরে বাংলার মানুষকে সচেতন করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল তা অবশ্যই প্রশংসনীয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *