মৃত্তিকা : উচ্চমাধ্যমিক ভূগোল | সপ্তম পর্ব

Content Topic :
মৃত্তিকা ক্ষয় কাকে বলে |
জলের মাধ্যমে মৃত্তিকা ক্ষয়ের পদ্ধতিসমূহ |
মৃত্তিকা ক্ষয় বা ভূমি ক্ষয়ের কারণ |
মৃত্তিকা ক্ষয় পরিবেশকে কীভাবে প্রভাবিত করে |
মৃত্তিকা সংরক্ষণ কাকে বলে |
মৃত্তিকা সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতিগুলি আলােচনা করাে |

উচ্চমাধ্যমিক ভূগোল : মৃত্তিকা

প্রশ্ন : মৃত্তিকা ক্ষয় কাকে বলে ?

উত্তর : বৃষ্টিপাত, জলপ্রবাহ, বায়ুপ্রবাহ, হিমবাহ, সমুদ্রতরঙ্গ প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তি ও মানুষের অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ ও কার্যাবলির ফলে মাটির পৃষ্ঠস্তরের হালকা ও অসংবদ্ধ অংশ ক্ষয়প্রাপ্ত, অপসারিত ও নগ্নীভূত হয় এবং মাটির উর্বরতাসহ স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য দ্রুত হ্রাস পায়। একে মৃত্তিকা ক্ষয় বলে।

প্রশ্ন : জলের মাধ্যমে মৃত্তিকা ক্ষয়ের পদ্ধতি সমূহ আলোচনা করো |

উত্তর : কর্দমাক্ত ক্ষয় : বৃষ্টির কণা সরাসরি মৃত্তিকার উপরিভাগে পড়লে তার কণাসমষ্টি ভেঙে গিয়ে সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম মৃত্তিকা কণায় পরিণত হয়, এই প্রক্রিয়াকে কর্দমাক্ত ক্ষয় (Splash Erosion) বলে। কর্দমাক্ত ক্ষয়ের ফলে মৃত্তিকার উপরিস্তরে সূক্ষ্ম মৃত্তিকা কণার মধ্যবর্তী ছিদ্রগুলি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বৃষ্টির জল মৃত্তিকার গভীরে পৌঁছােতে পারে না এবং মৃত্তিকার উপরিভাগের কণাগুলি বৃষ্টির জলের সঙ্গে অন্যত্র পরিবাহিত হয়ে যায়।

চাঁদর ক্ষয় : প্রবল বৃষ্টির জলে ভূমির ঢাল বরাবর জমির ওপরের পাতলা মাটিস্তর চাদরের মতাে সরে যায়। একে চাদর ক্ষয় (Sheet Erosion) বলে। এই প্রক্রিয়ায় মৃত্তিকা স্তরের পুরুত্ব (Thickness) ক্রমশ কমতে থাকে। এই পদ্ধতিতে মৃত্তিকা ক্ষয় বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে ঘটতে থাকে এবং মৃত্তিকার উর্বরতা হ্রাস পায়।

নালি ক্ষয় : বৃষ্টির জলের আঘাতে মাটিতে সরু লম্বা অগভীর গর্ত সৃষ্টি হয়। একে রিল বলে। ক্রমাগত বৃষ্টির জলে রিলগুলি গভীরতর ও লম্বা হয়ে সৃষ্ট নালি বরাবর মাটি ধুয়ে যায়। একে নালিক্ষয় বা Rill Erosion বলে। এই ধরনের মৃত্তিকার ক্ষয় নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকে। বিশেষ করে শুষ্ক অঞ্চলে হঠাৎ করে প্রবল বৃষ্টিপাত হলে তীব্র জলস্রোতের প্রবাহে ভূমিভাগে অসংখ্য নালির সৃষ্টি হয়। নালি ক্ষয়যুক্ত অঞ্চলে মাটি বন্ধুর ও কৃষিকাজের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে।

খাত ক্ষয় : উদ্ভিদবিহীন উন্মুক্ত ও ঢালু জমিতে বৃষ্টির জল দ্বারা নালি ক্ষয় আরও তীব্রতর হলে তা ধীরে ধীরে খাত ক্ষয়ে (Gully Erosion) পরিণত হয়। প্রবল বৃষ্টির জলের আঘাতে নালিগুলি পরস্পর পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে অধিকতর ঘনবিন্যাস রচনা করে। এরপর মাটি ক্রমাগত ধুয়ে আরও গভীর ছােটো ছােটো খাত বা গর্ত সৃষ্টি করে। এই ধরনের খাত বরাবর মৃত্তিকার ক্ষয় পরিলক্ষিত হয়।

প্রশ্ন : মৃত্তিকা ক্ষয় বা ভূমিক্ষয়ের কারণ কী?

উত্তর : মৃত্তিকা ক্ষয়ের প্রাকৃতিক কারণ :
খাড়া ঢাল : খাড়া পাহাড়ি ঢালের ওপর প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে বৃষ্টির জলে মাটি ধুয়ে যায়।
স্বল্প পরিমাণ বনভূমি : মাটির ওপর গাছপালার ঘন আবরণ না থাকলে বৃষ্টির জল, নদীর জল, বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রের ঢেউয়ের আঘাতে ভূমিক্ষয় হয়।
আলগা মাটি : মাটিতে চটচটে আঠালাে ভাব না থাকলে ভূমিক্ষয় সহজ হয়। সে কারণে সমুদ্রের ধারে, মরুভূমির কাছে, মালভূমির ঢালে মাটি তাড়াতাড়ি ক্ষয়ে যায়। কেন না, এইসব এলাকার মাটিতে বালির ভাগ বেশি। তাই মাটির বাঁধন আলগা।

মনুষ্যসৃষ্ট কারণে মৃত্তিকা :

বনভূমির বিলােপ : অতিরিক্ত গাছ কেটে ফেলার জন্য মাটির দানাগুলি আলগা হয়ে যায়। ফলে গাছের শিকড় আর তখন মাটিকে আঁকড়ে রাখতে পারে না।
ধাপচাষ : পাহাড়ি ঢলের উপর চাষ-আবাদ করার জন্য ধাপ কাটা হয়। এই ধাপগুলি জমির সমােন্নতি রেখা (Contour) বরাবর তৈরি করা না হলে বৃষ্টির জলের আঘাতে বা জলপ্রবাহের মাধ্যমে মাটি ক্ষয়ে যায়।
অনিয়ন্ত্রিত পশুপালন : পাহাড়ি অঞ্চলে অতিরিক্ত পশুচারণ করা হলেও ভূমিক্ষয় হয়। কারণ গবাদি পশু মাটির ওপরের ঘাসের আবরণকে খেয়ে প্রায় নির্মূল করে ফেলে।
ক্রুটিপূর্ণ জলসেচ : জলসেচ ব্যবস্থা অবৈজ্ঞানিক হলে মাটির গুণমান নষ্ট হয়। ফলে ভূমিক্ষয়ের হার বৃদ্ধি পায়।
জমির অনুপযুক্ত ব্যবহার : জমিকে উপযুক্ত ভাবে ব্যবহার না করা হলে অর্থাৎ যে জমিকে যে কাজে লাগালে ভাল হয় তাকে সেই কাজে না লাগিয়ে অন্য কোনােভাবে ব্যবহার করা হলে মাটির ক্ষয় হয়।

প্রশ্ন : মৃত্তিকা ক্ষয় পরিবেশকে কীভাবে প্রভাবিত করে?

উত্তর : পরিবেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদানগুলির মধ্যে মাটির ক্ষয়ের প্রত্যক্ষ ভূমিকা আছে। যেমন—

প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর প্রভাব : মাটি ছাড়া উদ্ভিদ জন্মায় না। কারণ মাটি উদ্ভিদকে পুষ্টি যােগায়। ফলে ভূমিক্ষয় হলে মাটির উর্বরতা কমে ও গাছপালার পরিমাণ কমে যায়।

বালি, পলি ও কাদাকণা দিয়ে মাটি তৈরি হয়। ফলে মাটির মধ্যে অসংখ্য ছিদ্র থাকে। এই ছিদ্রপথে জল চুঁইয়ে মাটির নিচে জলস্তর তৈরি করে। তাই ভূমিক্ষয় হলে মাটির মধ্যে জলের জোগান কমে যায়। ভৌম জলস্তর নেমে যায়।
মাটি বৃষ্টির জল ধারণ করে এবং সূর্যের তাপে কিছুটা জল মাটি থেকে বাষ্পীভূত হয়। ওই বাষ্প পরে ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাতে সাহায্য করে। ফলে ভূমিক্ষয় হলে জলচক্র ব্যাহত হয়।
মাটির মধ্যে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিয়ােজকরা বসবাস করে। যেমন- ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি। এদের কাজ হল উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃতদেহ ও জৈব আবর্জনাকে দ্রুত পচিয়ে নষ্ট করে ফেলা এবংওই পদার্থগুলি থেকে পুষ্টিকর রাসায়নিক পদার্থ নিষ্কাশন করে মাটিতে জমিয়ে রাখা। সুতরাং ভূমিক্ষয় হলে বিয়ােজকদের বাসভূমি নষ্ট হয় এবং খাদ্যশৃঙ্খল ব্যাহত হয়। ভূমিক্ষয় হলে নদীর নাব্যতা হ্রাস পায় ও বন্যা দেখা দেয়। ভূমিক্ষয়ের জন্য জলাধারের জল ধারণক্ষমতা হ্রাস পায়।
মানবিক পরিবেশের ওপর প্রভাব : ভূমিক্ষয়ের জন্য মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাজকর্মে সমস্যা দেখা দেয়। যেমন—
উর্বর মাটি ক্ষয়ে যাওয়ার ফলে ফলন কমে যায়। ফলে কৃষি উৎপাদন হ্রাস পায়।
ভূমিক্ষয় বেশি হলে মাটি ধুয়ে শেষ পর্যন্ত নদীর মধ্যে এসে জমা হয়। ফলে নদীর গভীরতা কমে যায়। নদী নৌ-পরিবহণের অযােগ্য হয়ে ওঠে।
ভূমিক্ষয়ের ফলে জলসেচ ব্যবস্থার ক্ষতি হয়।
মৃত্তিকা ক্ষয়ের ফলে নদী মজে গেলে নদীর মােহানায় গড়ে ভােলা বন্দরের ক্ষতি হয়। কলকাতা বন্দরের ক্ষেত্রে এই সমস্যা সাম্প্রতিককালে বিশেষ প্রকট হয়ে উঠেছে।
মৃত্তিকা ক্ষয়ের জন্য জলাজমিগুলির (Wetland) মধ্যে মাটি জমতে জমতে ভরাট হয়ে ওঠে। ফলে ওই জলাজমির বাস্তুতন্ত্র বিঘ্নিত হয়।
প্রশ্ন : মৃত্তিকা সংরক্ষণ কাকে বলে ?

উত্তর : মৃত্তিকার ক্ষয় রােধ করে উর্বরতা শক্তি পুনরুদ্ধার করতে, জমির কার্যকারিতা শক্তি বৃদ্ধি করতে এবং সর্বোপরি মাটি সম্পদকে মানুষের কল্যাণে সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করার জন্য যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, তাকে মৃত্তিকা সংরক্ষণ বলে।

প্রশ্ন : মৃত্তিকা সংরক্ষণের পদ্ধতিসমূহ আলোচনা করো |

উত্তর : কৃষিজ পদ্ধতি :
ফসল পুনরাবর্তন : শস্যাবর্তন, আন্তঃকৃষি এবং নানা ধরনের শস্য একই জমিতে চাষের মাধ্যমে মৃত্তিকা ক্ষয় রােধ করা যায়। কারণ এতে কোনও সময়ই জমি উন্মুক্ত থাকে না এবং মৃত্তিকার দৃঢ়তাও বৃদ্ধি পায়। এই জন্য ভারতে বর্ষাকালে একই জমিতে ভুট্টা, মােটর, ছােলা ইত্যাদি শস্যের চাষ হয়।
জৈব পদার্থের সংরক্ষণ : মৃত্তিকায় জৈব পদার্থের পরিমাণের হ্রাস রােধ করার জন্য শস্যাবর্তন করা হয়। এই ব্যবস্থা একদিকে মৃত্তিকার উর্বরতা বৃদ্ধি করে এবং অন্যদিকে জৈব পদার্থের পরিমাণের বৃদ্ধি ঘটায়। এ ছাড়া, শস্য পেকে যাওয়ার পর গাছের অবশিষ্টাংশ কৃষিক্ষেত্রে রেখে দেওয়া হয়। পাতা, মূল ইত্যাদিও জমিতে ফেলে রাখা হয়। এগুলি মৃত্তিকাকে ঢেকে রেখে ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করে।
শস্য নির্বাচন : মৃত্তিকা ক্ষয় রােধের জন্য এমন ধরনের শস্য নির্বাচন করা উচিত যেগুলি সর্বাধিক পরিমাণ ভূপৃষ্ঠ আচ্ছাদিত করে রাখতে পারে এবং মৃত্তিকা কণাগুলিকে দৃঢ়ভাবে সংঘবদ্ধ করতে পারে।

সমােন্নতি রেখা বরাবর কৃষিকাজ বা ফালি চাষ : পাহাড়ের সুদীর্ঘ লম্বা ঢালে চাদর ক্ষয় ও নালিক্ষয় বেশি হয়। ঢালের আড়াআড়ি বহু সরু সরু ফালি তৈরি করে কার্যকরী ঢালের দৈর্ঘ্য কমিয়ে দিলে ওই দুই প্রকার ক্ষয়ের তীব্রতা হ্রাস পায়। এ ছাড়া প্রত্যেকটা ফালিতে খাদ্যশস্য ও মধ্যবর্তী ঢালু জমিতে খড় বা ঘাস জাতীয় শস্য পর্যায়ক্রমে চাষ করলে জলপ্রবাহ বেশি গতি লাভ করতে পারে না। কারণ দুটি কর্ষিত ফালির মধ্যবর্তী ঘাস জলের প্রবাহকে থামিয়ে দেয়। এভাবে ফালি চাষের দ্বারা মাটির ক্ষয় রােধ করা যায়। যখন সমােন্নতিরেখার সমান্তরালে না করে আড়াআড়ি ফালি তৈরি করা হয় তখন সেই ব্যবস্থাকে সমােন্নতিরেখা ফালি-চাষ বলে।
ধাপ গঠন : ঢালু জমিতে বিভিন্ন প্রকার ধাপ গঠন করলে ঢালের গ্রেডিয়েন্ট বা কৌণিক মান ও কার্যকরী দৈর্ঘ্য হ্রাস পায়। বেঞ ধাপ (Bench Terrace) তৈরি করা হয় যেখানে জলের প্রবাহকে প্রায় পুরােপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। জমিতে বড়াে বড়াে যন্ত্রের ব্যবহার ও পুরাে জমি চাষের জন্য কাজে লাগাতে কৃষকেরা সাধারণত প্রশস্ত ভিতের ধাপ (Broad-based Terrace) গঠন করে। এ ধরনের ধাপযুক্ত জমিকে সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করলে মাটি প্রায় ক্ষয়ই হয় না।

প্রচলিত কৃষি পদ্ধতিতে চাষ আবাদের পরিবর্তে সংরক্ষিত কৃষি পদ্ধতি গ্রহণ : প্রচলিত চাষবাসের ক্ষেত্রে প্রথমে লাঙ্গল, ট্রাক্টর চালিয়ে মাটি তৈরি করে বীজ বােনা, চারাগাছ প্রভৃতি লাগানাে হয়। এতে মাটির কোনাে আচ্ছাদিত অংশ থাকে না। কিন্তু সংরক্ষিত কৃষি পদ্ধতিতে কতকগুলি বিশেষ প্রক্রিয়ায় মাটিকে যথাসম্ভব অকর্ষিত রেখে অর্থাৎ অনেকটা অংশ খড়কুটো ইত্যাদি জৈব পদার্থ দিয়ে ঢাকা রেখে চারাগাছ লাগানাে বা বীজ বােনা হয়। এর ফলে মাটির কণা আলগা হয় না এবং অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা পায়।

কারিগরি পদ্ধতি :

কৃত্রিম বাঁধ নির্মাণ : মৃত্তিকা ক্ষয় রােধের উদ্দেশ্যে ঢালের সমান্তরালে বিভিন্ন উচ্চতায় বাঁধ নির্মাণ করা হয় এবং দুটি বাঁধের মধ্যবর্তী অংশে কৃষিকাজ করা হয়।
খাতের তদারকি বা ব্যবস্থাপনা : খাত বরাবর জলপ্রবাহ কমানাের জন্য খাতগুলির মধ্যে পর পর কতকগুলি বাঁধ নির্মাণ করা হয়। একে বলা হয় চেক বাঁধ (Check Dam) খাতগুলি ছােটো হলে ঢালের প্রকৃতি অনুযায়ী 4-9 মিটার অন্তর প্রায় 0.5 মিটার উচ্চতাযুক্ত চেক বাঁধ তৈরি করা হয়। এই বাঁধগুলির পশ্চাতে পলি সঞ্চিত হলে খাতের ঢাল কমে যায়। খাত বরাবর জলপ্রবাহের গতিবেগ হ্রাস পেতে থাকে।
বৃক্ষরােপণ : খাত অন্তর্বর্তী জমিগুলিতে ঝােপ, বৃক্ষ ইত্যাদি রােপণ করলে মৃত্তিকায় হ্রাস পাবে। আবার মাটির বাঁধগুলির ওপর ঝােপঝাড় ও বৃক্ষরােপণ করা হয়ে থাকে।

শেল্টার বেল্ট : বিভিন্ন প্রকার গাছ সমান্তরালভাবে রােপণ করলে অতি শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহের গতিকে প্রতিরােধ করা সম্ভব। যা ভূমির উপরিভাগের মৃত্তিকা ক্ষয়ের পরিমাণ রােধ করে। মরুভূমি ও মরূদ্যান অঞ্চলে এভাবে মাটির ক্ষয় রােধ করা হয়।

অগভীর নালা কাটা : বাতাসের কার্যকরী শক্তি যেখানে বেশি সেইসব অঞ্চলে ভূমিক্ষয় বা মৃত্তিকা ক্ষয় কমাতে হলে বাতাসের গতির আড়াআড়িভাবে জমিতে নালা কেটে রাখলে ভূমিক্ষয় যেমন রােধ করা সম্ভব তেমনই বাতাস দ্বারা বাহিত মৃত্তিকা নালায় পরে নালা ভরাট করে দেয়।

জৈবপ্রযুক্তি কৌশল গ্রহণ : অতি খরস্রোত খাতগুলির জলের গতিবেগ রােধ ও ঢালের স্থায়িত্ব রক্ষার উদ্দেশ্যে জৈবপ্রযুক্তি (Bioengineering) কৌশল গ্রহণ করা হয়। এক্ষেত্রে স্থানীয় উদ্ভিদ ও প্রাকৃতিকভাবে পচনযােগ্য পদার্থ ব্যবহার করা হয়। গাছের টাটকা ডালকে আংশিক মাটি মাখিয়ে শক্ত আটি বা বাণ্ডিল করে খাতের মধ্যে লম্বা খুঁটি পুঁতে শুইয়ে রাখা হয়। এতে মাটি সঙ্গে সঙ্গে সংরক্ষিত হয় এবং পরবর্তীকালে ডালপালা থেকে গভীর শিকড় বিশিষ্ট স্থায়ী উদ্ভিদ জন্মে মাটির ক্ষয় রােধ করবে।

Welcome Visitor

Rlearn Education
error: Content is protected !!